সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত যেসব লটের দরপত্র হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিতে একটি, কোনোটিতে দুটি, কোনোটিতে তিনটি দরপত্র জমা পড়েছে। যে লটে তিনটি দরপত্র পড়েছে, সেগুলোও একই মালিকের তিন প্রতিষ্ঠানের।
এদিকে এ সমঝোতার কারণে প্রতিযোগিতাহীন দরপত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। এতে নিম্নমানের বই ছাপার শঙ্কাও রয়েছে। কম দরপত্র জমা পড়ায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডও (এনসিটিবি) বাছাই করার সুযোগ পাচ্ছে না।
.png)
বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর দায়িত্ব এনসিটিবির। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এবার প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কোটি কপি পাঠ্যবই ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এনসিটিবির সূত্র ও দরপত্রে অংশ নেয়া কয়েকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সূত্র বলেছে, গত কয়েক বছর সরকারি দরের চেয়ে অনেক কম দর দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়া হয়েছিল। তবে এবার দর দেওয়া হয়েছে প্রাক্কলিত দরের সামান্য কম। ফলে আগেরবারের চেয়ে দর বেশি দেওয়ায় এবার বই ছাপাতে সরকারের খরচ বাড়বে। এরপরও গত কয়েক বছরের মতো এবারও যে বইয়ের নিম্নমানের অভিযোগ উঠবে না, সেই নিশ্চয়তা এখনো নেই।
প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যের পাঠ্যবই গত বছর পর্যন্ত ছেপেছে এনসিটিবি। নতুন শিক্ষাক্রমের কারণে এবার দশম শ্রেণির জন্যও নতুন বই ছাপানো হবে। এবার মোট ৮১৪ লটে বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে গত মঙ্গল ও বুধবার ২৯৮ লটের দরপত্র খোলাও হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মঙ্গলবার ষষ্ঠ শ্রেণির ১০০ ও সপ্তম শ্রেণির ১০০ লটের এবং বুধবার প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপানোর ৯৮ লটের দরপত্র খোলা হয়। বাকি লটগুলোর দরপত্র পর্যায়ক্রমে আহ্বান করে খোলা হবে।
এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, এবার দরপত্র খোলার পর বোঝা গেছে সরকারের প্রাক্কলিত দর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেওয়ার আগেই জেনে গেছে। এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা এটি ফাঁস করেছেন।
একাধিক মুদ্রণকারী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গল ও বুধবার যেসব লটের দরপত্র খোলা হয়েছে, সেগুলোতে প্রতিযোগিতা ছাড়াই অধিকাংশ কাজ পাচ্ছে নিজেদের মধ্যে সমঝোতাকারী কয়েকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। সবই সিন্ডিকেটের কারসাজি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এবার বড় কয়েকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান দফায় দফায় বৈঠক করে ঠিক করেছে কে কোন লটের দরপত্র জমা দেবে। পরের লটগুলোতেও একই কৌশল নেয়া হতে পারে।
সরকার ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন বই দিচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য যে ৩৫ কোটি কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে, তার মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের বই ৯ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ১৫ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪৬ কপি বই। বাকিগুলো নবম ও দশম শ্রেণির। এই দুই শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব বই ছাপার কাজের দরপত্র ডাকা হয় লটভিত্তিক।
বাড়ছে ব্যয়-
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাধ্যমিকের জন্য ১ হাজার ২২৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং প্রাথমিকের জন্য ৪৩৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গত বছর মাধ্যমিকে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিকে ৪৪০ কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বই ছাপার খরচ বাড়ছে ২০০ কোটি টাকার বেশি।
এসব প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এবার দশম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপাতে হবে বলে ছাপার খরচ বাড়বে। সবকিছুই নিয়ম অনুযায়ী করা হচ্ছে।