জানা যায়, ‘সাইবার অপরাধ সম্পর্কে জানুন, নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন' স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে শিক্ষার্থীদের ছয়টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম চালিয়েছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে, মানুষ সাইবার অপরাধের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। ইন্টারনেট প্রতারণা, আইডেন্টিটি চুরি, সাইবার হ্যারাসমেন্ট, সাইবার বুলিং, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, সাইবার সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সাইবার অপরাধ সম্পর্কে কোমলমতি স্কুলকলেজের ছেলেমেয়েদের সচেতন করার কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন তারা।
সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রায় বলেন, আজকের ডিজিটাল যুগে, সাইবার অপরাধ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হয়ে উঠেছে। আমাদের সাইবার সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আছেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক ও সহযোগী অধ্যাপক মুনমুন বিনতে আজিজ। আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে হ্যাকাররা মানুষের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নানা অপকর্ম করছে। এমনকি ই-কমার্সের নামে ভুয়া পেজ খুলে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে অহরহ। সাইবার অপরাধের ফলে সোশ্যাল হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। আমরা সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি।
.png)
সচেতনতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শেখ মহসিন আহমেদ জানান, সাইবার ক্রাইমের মধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ওপেনিং, সাইবার বুলিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডাটা চুরি, সেলস বা কর্পোরেট অফিসের ডাটা চুরি, র্যানসমওয়্যার আক্রমণ, কপিরাইট আইন অমান্য, অবৈধ জুয়ার খেলা, অবৈধ জিনিস বিক্রি করা, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি জনিত কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকা। সাইবার অপরাধগুলোও ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আমরা যখন আমাদের ক্রিমিনোলজির বিভিন্ন কোর্সে এই বিষয়ে পড়াশোনা করি ও গবেষণা করি তখন এই অপরাধের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারি। দেশ ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধগুলো বেড়েই চলছে। গবেষণামতে বাংলাদেশের ৮০শতাংশ মেয়ে সাইবার অপরাধের শিকার। আমরা যেহেতু এই বিষয়ে পড়াশোনা করছি তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমাদের এই আয়োজন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক জানান, নিরাপদ এবং সুরক্ষিত সমাজ তৈরি করতে সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম অনেক বেশি পরিমাণে সংগঠিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এর ভুক্তভোগী হচ্ছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এর অভিযোগ করতে হবে, কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে? যেহেতু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলকলেজের ছেলেমেয়েদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে।