হল ভ্যাকেন্ট ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য আজ (শুক্রবার) সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা আপাতত আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্র ও শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
.png)
সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় বাস চালকের বিচারসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে একটি বাসে আগুন দেন।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে গাছ ফেলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুয়াদ ইকবাল সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো:
পলাতক আসামি খুনি ড্রাইভারকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। শাহ আমানত বাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। আহত শিক্ষার্থীর সব চিকিৎসার দায়িত্ব শাহ আমানত বাস কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কে দ্রুত প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শুরু এবং দূরপাল্লার বাস ছাড়া সব লোকাল বাস চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সব প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, এক্সরে, ইসিজি আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে অপ্রতুল হওয়ায় অতি দ্রুত শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করারও দাবি তুলে ধরা হয়।
এ সব দাবি লিখিতভাবে আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব প্রকার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং আন্দোলন চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের সেলিমা কাদের কলেজ গেট এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে শান্ত সাহা ও তৌফিক হোসেন নামে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই ছাত্র নিহত হন।