শিক্ষক রকিবুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক। যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলা ঐ ছাত্রী বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি ভবনের চারতলায় এক জুনিয়র ছাত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকেন ঐ ছাত্রী। ভবনটির তিনতলায় স্ত্রী নিয়ে থাকেন শিক্ষক রকিবুজ্জামান। গত বছরের ২৮ অক্টোবর পূজার ছুটি থাকায় ভাড়াটিয়াদের প্রায় সবাই গ্রামের বাড়ি চলে যান। কিন্তু কিছুদিন পর সেমিস্টার পরীক্ষা থাকায় ঐ ছাত্রী বাড়ি যাননি। এদিন সকাল ৯টার দিকে কক্ষের টেবিলে বসে তিনি পড়ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জুনিয়র ছাত্রী স্থানীয় একটি কোচিংয়ে ক্লাস নিতে চলে যান। তখন পড়ার টেবিল থেকে ঐ ছাত্রী উঠে দরজা বন্ধ করার আগেই শিক্ষক রকিবুজ্জামান তার কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন।
.png)
এ অবস্থায় ঐ ছাত্রী ভয় পেয়ে যান। রকিবুজ্জামান রুমে প্রবেশ করেই নানা কথা বলা শুরু করেন। একপর্যায়ে ধর্ষণচেষ্টা চালান। এ সময় ঐ ছাত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে শিক্ষক তাকে ছেড়ে কক্ষ থেকে চলে যান।
ঐ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষক রকিবুজ্জামান কক্ষ থেকে চলে যাওয়ার পর ঘটনাটি বিভাগের ড. তারানা নূপুর ম্যাডামসহ এক বড় আপুকেও জানাই। কিন্তু লজ্জার ভয়ে মা-বাবাকে জানাইনি৷ সামনে পরীক্ষা, তারা জানলে হয়তো আমার পড়াশোনা বন্ধ করে দেবে। এলাকার লোকজনও বিষয়টি খারাপভাবে নেবে। তাই চুপ ছিলাম।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আমি সবসময় চিন্তিত ছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, আর গোপন রাখা ঠিক হবে না। এদিকে আমার সেমিস্টার পরীক্ষাও শেষ। পরে ৫ ডিসেম্বর উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিই। অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক যৌন হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনায় দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়। এরপর আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইলে রকিবুজ্জামান নিজেকে ভালো মানুষ প্রমাণ করতে নানাভাবে চেষ্টা করছেন। তার কাছের বিভিন্ন ছাত্রকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াচ্ছেন। আমাকে খারাপ প্রমাণ করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক রকিবুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি মেয়েটিকে ভালো করে চিনিও না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন-নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, তদন্ত কমিটির প্রধান ও সংগীত বিভাগের অধ্যাপক মুশাররাত শবনম বলেন, অভিযোগের পর ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, তদন্ত কমিটিকে কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক ছাত্রীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে পরীক্ষায় জরিমানা আদায়, নম্বর কম দেওয়া ও থিসিস পেপার আটকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ মার্চ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে একই বিভাগের প্রধান রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রকেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পরে দাবি মেনে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করে বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রকে তদন্তের আওতায় নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহাকে স্থায়ী বহিষ্কার ও একই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।