বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার খাবারের দোকানেই বিক্রি হয় হেলিকপ্টার, আর সেই হেলিকপ্টার দিয়ে খাবার খেয়ে অনেকেই তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। আরো মজার ব্যাপার হলো এই হেলিকপ্টারের দাম হলো ৪৫-৫০ টাকা। মূলত, বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের হোটেলগুলোতে মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ খাবার রয়েছে; যেটির নাম ‘হেলিকপ্টার’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মুরগির একটি বিশেষ পিসের নাম হেলিকপ্টার। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সর্বত্রই প্রচলিত। মূলত হেলিকপ্টার হলো মুরগির পাখনার অংশের মাংসকে বোঝায়। পাখনার মাংসের পিসটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার দোকানিদের কাছে পরিচিত হেলিকপ্টার নামে। আর এই হেলিকপ্টারের দাম মুরগির অন্যান্য পিসের মতোই ৪৫-৫০ টাকা।
.png)
শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার দোকানি নয়, শিক্ষার্থীরাও বোঝেন হেলিকপ্টার কী। অনেক সময় তারা নিজেরাই হেলিকপ্টার চান। আর দোকানের কর্মচারী মুরগির মাংসের ঐ পিসটি নিয়ে আসেন।
হাড়ের মাংস হওয়ার পাশাপাশি মুরগির মাংসের অন্যান্য পিসের তুলনায় হেলিকপ্টারের আকার একটু বড় হয়ে থাকে। এজন্য অনেকেই হেলিকপ্টার খেতে আগ্রহী থাকেন।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার পাশাপাশি শহিদ সালাম-বরকত হল, শহিদ রফিক-জব্বার হল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, জয় বাংলা ফটক, প্রধান ফটক, মীর মশাররফ হোসেন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়ার দোকানগুলোতেই মুরগির পাখনার মাংসটি হেলিকপ্টার নামে পরিচিত।
কিন্তু এই হেলিকপ্টার নামের প্রচলন কীভাবে হলো তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। বটতলার দোকানিরাও স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মামুন বলেন, একমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলাতেই হেলিকপ্টার দিয়ে ভাত খাওয়া যায়। শুনতে অন্যদের কাছে একটু অবাক বা চমকপ্রদ তথ্য বলে মনে হতে পারে। তবে এটি সত্য, আসলে মুরগির এই পিসটি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার শুরু থেকেই শুনে আসছি এটিকে বলা হয় হেলিকপ্টার। তবে হেলিকপ্টারের সাইজ একটু বড় হয়, পাখনার এই মাংসটি খেতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আমরাও মাঝেমধ্যে খেয়ে থাকি।
বটতলার দোকানের কর্মচারী জহির আলী বলেন, আমি এখানে আসার পর থেকেই মুরগির পাখনার মাংসকে হেলিকপ্টার বলে শুনে আসছি। সবাই যাতে বুঝতে পারে এজন্য এটাকে হেলিকপ্টারই বলি।