ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় মাতৃভাষা দিবস

ভাষার মাসেই শুরু হোক বাংলার শুদ্ধ ব্যবহার

শুভ দে, মাভাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ভাষার মাসেই শুরু হোক বাংলার শুদ্ধ ব্যবহার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

২১ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্ববাসী এদিন বাঙালি জাতিকে স্মরণ করে যার যার মাতৃভাষাকে সম্মান জানায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস আর জাতীয় শহিদ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। একই পথপরিক্রমায় ২০০০ সাল থেকে এ দিনটিতেই বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

‘ফেব্রুয়ারি’ বাতাসে জয়ের আভাস, প্রকৃতিতে বিজয়ের উল্লাস, এ যে ভাষার মাস। ভাষার এই আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিক। এমন অসংখ্য তাজা প্রাণ তাদের বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করে অ, আ, ক, খ। এই অর্জন অমূল্য, তাই ভাষার সম্মান রক্ষা সবার কর্তব্য।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে অর্জন ও এর গুরুত্বসহ নানা বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

Advertisement


তরুণদের অনুপ্রেরণার মাসের নাম ফেব্রুয়ারি

ফেব্রুয়ারি নামটা শুনলেই রক্তে কেমন টান লাগে। পরক্ষণেই মনে পড়ে এই মাসটার জন্য অনেকেই রক্ত দিয়েছেন। কারণ তাদের রক্ত যে আমাদের রক্তে বয়ে চলেছে। এর জন্যই হয়ত আমাদের এতটা টান। ফেব্রুয়ারি শুনলেই মনে পড়ে যায় রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত আরো নাম না জানা অনেককেই। যাদের জন্য আমাদের মুখের এই ভাষাকে আপন করে পেয়েছি। তারা রয়ে যাবেন ফেব্রুয়ারির সকাল বেলার সূর্যোদয় হয়ে। সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা হাস্যোজ্জ্বল সূর্যোদয় দেখতে পারি। তাদের জন্য তরুণরা আজকে শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বলতে পারে তারুণ্য মানুষকে জিততে শেখায়, তারুণ্য মানুষকে ত্যাগ শেখায়। কীভাবে অধিকার আদায় করা হয় তা শেখায়। 

আজকের তরুণরা তাদের বুকে ধারণ করে নিজেদের বড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন বুনে। তাই এই সময়ের তরুণরা চাই তাদের মতো আত্মত্যাগী হয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে। 

মেহেদী হাসান শুভ, গণিত বিভাগ 

ফেব্রুয়ারি’ মনে করিয়ে দেয় ত্যাগ তিতিক্ষার গল্প

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের পর অনেকবার ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। শহিদদের স্মরণ করে অনেকবার বেদিতে ফুল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সর্বস্তরের বাংলা কী আজও চালু হতে পারেনি। আমরা এখনো বাংলা ভাষাকে প্রাপ্য সম্মান দিতে পারিনি। এখনো অফিস, আদালতে ইংরেজির আধিক্য চলছে। পথেঘাটে দোকানপাটের দিকে তাকালেই দেখা যায় ইংরেজির প্রচলন। বড় বড় সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামের ব্যানারের দিকে তাকালেও দেখা যায় ইংরেজির চাপ। যেই ভাষার জন্য তাজা প্রাণ দেওয়া হয়েছিল, জীবন দেওয়া হয়েছিল সেই ভাষা আজ অবহেলিত। আমরা সালাম, রফিকদের রক্তের সম্মান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। 

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগে খানিকটা ব্যর্থ। তারা বাংলা ভাষার সঙ্গে তথাকথিত আরো ভাষা জুড়ে বাংলা ভাষাকে বানিয়ে দিয়েছে ‘বাংলিশ’। যা ভাষার ব্যঙ্গ বলা চলে। তাছাড়া বর্তমানে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি শিক্ষায় উৎসাহিত করে কিন্তু শুদ্ধ বাংলা শিক্ষা দেওয়ায় তাদের কোনো আগ্রহ নেই। আরো বেশ কিছু কর্মস্থল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন বাংলা বলাকে অনুৎসাহিত করা হয়, এমনকি বাংলা বে অপমানজনক মনে করা হয়। 

দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও পুরোপুরি শুদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যবহার হয় না, এতে আমাদের ভাষা শহিদদের ত্যাগ এবং অর্জনকে লাঞ্ছিত করা হয়। এই ভাষার মাসে দূর হোক বাংলা ভাষার অসম্মান এবং গ্লানি। চর্চা হোক শুদ্ধ বাংলার। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা দিবস পালন করেই ক্ষান্ত না হয়ে বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরের ভাষা হিসেবে প্রচলন করা হোক। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলা ভাষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হোক।

মৃণাল কান্তি বর্মণ, অর্থনীতি বিভাগ, মাভাবিপ্রবি

বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় স্পন্দন

ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা। এই চেতনা থেকেই বাঙালি আজ স্বাধীন জাতি। বর্তমানে বিভিন্নভাবে বাংলা ভাষার মধ্যে বিদেশি ভাষা প্রবেশের ফলে ভাষার সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। মুখে মুখে গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে বিদেশি ভাষা। বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন এবং ভাষাকে জীবিত রাখতে একযোগে কাজ করতে হবে সবাইকে। 

আমরা গর্ব করে বলতে পারি, পৃথিবীর বুকে আমরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার মান রাখতে রক্ত দিয়েছি। কিন্তু আমরা কী যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছি? বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণে আমাদের মিষ্টি মাতৃভাষা হারিয়েছে তার শ্রুতিমাধুর্য। শিক্ষা, চাকরিসহ আরো অনেক ক্ষেত্রেই বাংলার তুলনায় ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

তবে হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে থাকার জন্য আমাদের অবশ্যই অন্যান্য ভাষা চর্চার প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটা মাতৃভাষাকে পেছনে ফেলে নয়। আমাদের দেশের কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে বর্তমানে ভাষার অপব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের উচিত বাংলা ভাষা চর্চা ও গবেষণার প্রতি আরো বেশি উদ্বুদ্ধ হওয়া। শুদ্ধ ও সুন্দর বাংলা চর্চার মাধ্যমে কথোপকথনকে আরো বেশি আড়ম্বরপূর্ণ করে তোলা।

শ্রাবন্তী দেবনাথ, অর্থনীতি বিভাগ

ভাষার মাসে ভাষা বিকৃতি বন্ধ হোক

আজকাল চারদিকে যেন ভাষাকে নিয়ে রসিকতা। আমরা আমাদের আপনজনদের নাম বিকৃত করে উচ্চারণ করে থাকি। হয়ত তা করা হয় রসিকতার সুরে কিন্তু নিঃসন্দেহে তা ভাষার বিকৃতি। 

আজকাল ভাষা বিকৃতির কেন্দ্রস্থল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। এখানে মানুষজন বিভিন্ন স্ট্যাটাস, কমেন্টস এবং মেসেজ করার সময় বাংলা ভাষার বিভিন্ন শব্দের বানানে অনেক ভুল করে থাকেন। রসিকতা করে অনেক শব্দ উচ্চারণ করে থাকেন, যা ভাষার স্বাভাবিক বিকাশকে নষ্ট করে। 

আবার অনেকেই আঞ্চলিক ভাষা বা অন্য মাতৃভাষায় কথা বলা মানুষদের নিয়ে রসিকতা করে যা মোটেই কাম্য নয় কেননা অঞ্চলভেদে ভাষার পরিবর্তন বা উপভাষাগুলোই হলো ভাষার সৌন্দর্য।

সোনালী ত্রিপুরা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!