ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বিসিএসে অংশগ্রহণ বাড়ছে কুবিয়ানদের

এবিএস ফরহাদ, কুবি
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বিসিএসে অংশগ্রহণ বাড়ছে কুবিয়ানদের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্তমান সময়ে তরুণরা ক্যারিয়ার হিসেবে বিসিএসকেই প্রথমে স্থান দিয়েছেন। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নে পড়ালেখা করছেন লাখো তরুণ। দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে প্রতিবছর লাখো চাকরিপ্রত্যাশী বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। দেশের বড় শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিসিএস অংশগ্রহণ আগে থেকেই বেশি। তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মতো নবীন শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বিসিএসে অংশগ্রহণ।

জানা গেছে, শুরু থেকে সংকট আর অপূর্ণতার মধ্যে দিয়ে পথ চলতে হয়েছে নবীন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে। অবকাঠামোগত অপূর্ণতা, লাইব্রেরি সুবিধা না থাকা, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা, নানা রাজনৈতিক অস্থিরতায় কেটেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে সময়ের পরিক্রমায় এখানেও এসেছে পরিবর্তন। শিক্ষার্থীরা এখন মনোযোগী নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ায়। ধীরে ধীরে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাকরিপ্রত্যাশী হওয়ায় অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরির পড়ায় মনোযোগী হচ্ছে। যারা শিক্ষক, পুলিশ, আইনজীবী, ব্যবসায়, কর্পোরেট, সাংবাদিকসহ নানাক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো ক্যারিয়ারভিত্তিক তেমন কোনো কার্যক্রম বা সংগঠন না থাকায় চাকরির পড়ালেখার পরিবেশ গড়ে উঠেনি বলে মনে করেন অনেকেই। 

Advertisement

এদিকে দেশের অন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করা শিক্ষার্থীদের কাছে পছন্দের শীর্ষে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা (বিসিএস)। বিসিএসকে সোনার হরিণ বলা হলেও বিসিএস ক্যাডারে কুবির শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। 

সর্বশেষ প্রকাশিত ৪৩তম বিসিএসের ফলাফলে দেখা যায়, দুইজন প্রশাসনিক ক্যাডারসহ ১৪ জন শিক্ষার্থী ক্যাডার হয়েছেন। এরমধ্যে ডাক ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন কুবির সাবেক শিক্ষার্থী এসএম রিয়াজুল করিম। এর আগে ৪০তম ও ৪১তম বিসিএসের প্রকাশিত ফলাফলে কুবির শিক্ষার্থীদের ফলাফল ছিল চোখে পড়ার মতো। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিসিএসে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, দেশের চাকরি বাজারে এখন শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে বিসিএস। চাকরিপ্রত্যাশী হিসেবে আমাদের প্রথম পছন্দ বিসিএস ক্যাডার। যদিও এটি অর্জন খুবই কষ্টসাধ্য, কিন্তু চেষ্টা থাকলে সম্ভব হবে। আমাদের এই আগ্রহের ক্ষেত্রে বড় একটি ভূমিকা রাখছে যারা কুবি থেকে ক্যাডার হয়েছেন। কারণ, তাদের ইতিবাচক মনোভাব আর লাইফস্টাইল আমাদের আগ্রহী করে তুলছে। 

আরেক শিক্ষার্থী এমএ রায়হান রহমান বলেন, আমাদের এখানে আরো বিসিএস ক্যাডার থাকতেন। কিন্তু নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি নেই, সুষ্ঠু পড়ার পরিবেশ না থাকায় অনেকে পড়তে পারছে না। এছাড়া আবাসিক হলগুলোর রিডিং রুমেও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এছাড়া ক্যারিয়ারভিত্তিক ক্লাব না থাকা, সেমিনার-ওয়ার্কশপ না হওয়ায় অনেকে আগ্রহ পাচ্ছে না। তবে পড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে পারলে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেকে অংশ নিবে বিসিএসে। 

এদিকে বিসিএসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক বলেই মনে করেন সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান বিসিএস ক্যাডাররা। 

৪৩তম বিসিএসে ডাক ক্যাডারে প্রথম হওয়া রিয়াজুল করিম বলেন, বিসিএস এ  দেশের বিভিন্ন সেক্টরে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করা যায়। তাছাড়া দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে বিসিএস ক্যাডারগণ, সেই সঙ্গে উচ্চ শিক্ষার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। আগামীতে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে কুবির শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে প্রত্যাশা করি। 

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কুবির শিক্ষার্থীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনবে বলে মনে করি। 

কুবি মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ৪০তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ বলেন, আমার কাছে বিষয়টা পজিটিভই মনে হয়। যাদের বিসিএস কেন্দ্রিক আগ্রহ আছে, যারা সিভিল সার্ভিসে গিয়ে সরাসরি সমাজ পরিবর্তনের অংশীদার হতে চায়, তাদের উচিত বিসিএসকে প্রথম প্রায়োরিটিতে রাখা। তবে সেক্ষেত্রে সঠিক প্রস্তুতির সঙ্গে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি সবসময় চাকরিক্ষেত্রে বিচিত্রতার পক্ষপাতী। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এককেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা যেমন নেই একইভাবে জব সেক্টরগুলোতেও সুযোগ সীমিত। সেক্ষেত্রে বিসিএস হতে পারে অন্যতম সেরা সুযোগ।

তিনি বলেন, বিসিএস এর মাধ্যমে পুলিশ, এডমিন, কাস্টম, ট্যাক্সসহ সিভিল সার্ভিসের সেরা জায়গাটা যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দিন দিন ক্যাডার হওয়াটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিএসসি দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা শেষ করতে পারলে শিক্ষার্থীরা লাভবান হতে পারবে। তবে অবশ্যই বিসিএসের বাইরে বড় একটি জগৎ আছে। সেটাকে অবহেলা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় বিসিএস, ব্যাংক, স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে পড়ার সুযোগ অথবা কর্পোরেট চাকরি প্রতিটিক্ষেত্রে আরো বেশি অবদান রাখতে পারে। আমি বিসিএস কেন্দ্রিক এই আগ্রহকে স্বাগত জানাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: কুবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!