বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মুক্তমঞ্চ, যেটির নামকরণ হয়েছে প্রখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীনের নামানুসারে। ১৯৮০ সালে সেলিম আল দীন রচিত ‘শকুন্তলা’ নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক রাজধানীর তীর্থস্থান খ্যাত এই মুক্তমঞ্চের যাত্রা শুরু হয়। এরপর আরো কতশত নাটকের মঞ্চায়ন হয়েছে, হয়েছে হাজারো কনসার্ট।
সেলিম আল দীনের প্রচেষ্টাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
যদিও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাহাঙ্গীরনগরের পথচলা শুরু হয় আরো আগে। যেমন দেশের অভিনয় জগতের আলোকিত মুখ হুমায়ুন ফরীদি; তিনি ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুজ্জামান সেলিম, শুভাশিস ভৌমিক, ফারুক আহমেদ, সজল নূর, নাট্যকার ও গবেষক আনন জামান, মডেল ও অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু, মিম মানতাসা, আফসানা আরা বিন্দু পড়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।
.png)

বাংলাদেশে পুতুল নাচের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণার জন্য পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম খোলা হয়েছে। বিশেষ চহিদাসম্পন্ন শিশুকিশোরদের জন্য ‘আনন্দশালা’ নামে একটি স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম খোলা হয়েছে।
সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে ১৫০টির বেশি। এসব সংগঠন সব সময়ই ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে।
এছাড়া শীতের হিম উৎসব, শিক্ষা-সমাপনী অনুষ্ঠানের রাজা-রাণী নির্বাচন কিংবা প্রজাপতি ও পাখিমেলা-এসবই ব্যতিক্রম করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে।
সারা বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানাভাবে সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন হয়ে থাকে। যে কোনো উপলক্ষেই যেন গান, কবিতা, নৃত্য ছাড়া চলে না।
এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, সারা বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো না কোনো আয়োজন থাকে। যেটি আমরা তো উপভোগ করিই, বাইরে থেকেও অন্যরা এসে উপভোগ করেন। সাংস্কৃতিক রাজধানী শব্দটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যথাযথই বলব।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সংগঠন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল প্রায় এক ডজন সংগঠন এই জোটের ব্যানারে রয়েছে। শুধু সংস্কৃতি চর্চা নয়, যৌক্তিক নানা দাবি আদায়ের জন্যও তারা সোচ্চার হয়।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি শরণ এহসান বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষ যা কিছু করে, ভাবে, চর্চা করে, মানুষের আচার-আচরণ, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, সমাজের রীতিনীতি ইত্যাদি। আর রাজধানী হলো কোন বিষয়, স্থানের প্রাণকেন্দ্র। অর্থাৎ, সাংস্কৃতিক রাজধানী বলতে বোঝায় যে স্থানকে ঘিরে সংস্কৃতি তাকে বলা হয়।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয়, কারণ এখানে সাংস্কৃতিক চর্চা হয় অন্যরকমভাবে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসির) সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে নাটক, গান, কবিতা, সিনেমা, বিতর্ক, সাহিত্য, খেলাধুলা ইত্যাদি চর্চা করা হয়। এখানকার প্রতিটি মানুষ সংস্কৃতিকে ধারণ করে, সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করে। এই ক্যাম্পাসের মনোমুগ্ধকর নির্জন, কোলাহলমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানকার প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনকে সংস্কৃতিমনা করে তোলে। সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এজন্য হয়ত জাহাঙ্গীরনগরকে সংস্কৃতির রাজধানী খেতাবে আখ্যায়িত করা হয়।