ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

যবিপ্রবির ছবির গল্প: হলের ছাদে পাখির সংসার

শিহাব উদ্দিন সরকার, যবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৫:০৬, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
যবিপ্রবির ছবির গল্প: হলের ছাদে পাখির সংসার
বিকেল থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত মুখরিত থাকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট এই সব ব্যস্ততা মিলিয়েই কাটে শিক্ষার্থীদের দিনকাল। এত সব ব্যস্ততার মধ্যেই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের স্বস্তি দিচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখি। চড়ুই পাখির ডাকে মুখর যবিপ্রবির শহিদ মসিয়ূর রহমান হল। বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পাখির কিচিরমিচির শব্দ স্থানটি মুখর থাকে। 

পাখির ডাকে ভোরে ঘুম ভাঙে হলের শিক্ষার্থীদের। মৌসুমি এসব চড়ুই পাখি কোথা থেকে এলো- তা কেউ জানে না। বেলা শেষে চড়ুইয়ের কিচিরমিচির সূর্যাস্তের আগমনবার্তা ছড়িয়ে দেয় চারপাশ। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুগ্ধ করেছে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের, পাখিপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার এক বিরল দৃশ্য। ভোর হতেই আহারের সন্ধানে বেরিয়ে যায় তারা, আর গোধূলিলগ্নে ফিরে আসে অভয়ারণ্যের নীড়ে।

Advertisement

 ঝাঁকে ঝাঁক চড়ুই পাখি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যবিপ্রবির শহিদ মসিয়ূর রহমান হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আমরা সান্ধ্যকালীন সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে আগমন এবং তাদের কিচিরমিচির শব্দ ও কলকাকলি খুবই উপভোগ করি। পাশাপাশি সামনে থেকে এসব পাখির কিচিরমিচির স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের জাকারিয়া হাবিব জীম বলেন, শীতের সন্ধ্যায় জানান দিতে যেন পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখরিত হতে থাকে ৯০০ শিক্ষার্থী সেকেন্ড হোম। হলে প্রবেশ করতেই পাখির এই ব্যস্ততা আপনাকে মুগ্ধ করবে। সবুজে আচ্ছাদিত ক্যাম্পাসের একটি বড় আকর্ষণ। সন্ধ্যার এই মুখরিত পরিবেশ আর পাখির চঞ্চলতা আপনাকে একবার হলেও ঘরে বাইরে আসতে বাধ্য করবে। 

যবিপ্রবির শহিদ মসিয়ূর রহমান হলে পাখিদের সংসার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও ক্যাম্পাসের গবেষণা পুকুরে কিছু অতিথি পাখিও দেখা মিলবে, যদি ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ এদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নিতেন তাহলে হয়ত, আরো বেশি অতিথি পাখির আগমনে যবিপ্রবি মুখরিত থাকত।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের রেজওয়ান ইসলাম জিহাদ এর ভাবনায়, এই স্নিগ্ধ শীতের সকালবেলা অনেক পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ কার না ভালো লাগে? বাইরে গাড়ির বিকট শব্দ থেকে যদি সবার ঘুম ভাঙ্গে পাখির কিচিমিচির শব্দে। তাহলে সকালটা কতই না সুন্দরভাবে যায়! আর বিকালে পশ্চিমের বেলকনিতে যদি হালকা মিষ্টি মৃদু রোদ এসে থাকে, আর শালিক, চড়ুই পাখির তীব্র কিচিমিচির শব্দ, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির একই লাইনে আবির্ভূত হওয়া কতই না সুন্দর সেগুলো দেখতে। 

পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ উপভোগ করের শিক্ষার্থীরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শীতের এই স্নিগ্ধ বিকেলে হালকা যদি মন খারাপ থাকে তাহলে আর সমস্যা নেই, হাতে একটা উপন্যাসের বই এক কাপ চা নিয়ে বেলকনিতে যান, দেখতে পাবেন শত শত পাখি যবিপ্রবি ছাত্র হলের গাছে তাদের নিজেদের কাব্যিক সুর উপস্থাপনা করছে।

পরিবেশবান্ধব ও কৃষকবান্ধব পাখি হিসেবে চড়ুইয়ের খ্যাতি আছে। এরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে নেয়। এরা মূলত বিভিন্ন পোকার শূককীট, ল্যাদাপোকাসহ আরো কিছু ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফসলের উপকার করে। এরা ক্ষেতের নানারকম অপকারী আগাছার দানা খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এরা শস্যদানা খায় ঠিকই, কিন্তু তার পরিমাণ যৎসামান্য। পোকামাকড়, দানা শস্য সব মিলিয়ে এক একটা চড়ুই পঁচিশ গ্রামের বেশি খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না।

প্রতিকূল পরিবেশে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে চড়ুই পাখি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চড়ুই পাখি মোটামুটি ১৬ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। স্ত্রী চড়ুই ধূসর বাদামি ও পুরুষ চড়ুই ধূসর বাদামির সঙ্গে কিছুটা কালো রঙের হয়। দেহের রঙের সঙ্গে পাকা ফসলের রঙের সঙ্গে মিশে থাকায় এরা শিকারি পাখিদের থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে। মানুষের কাছাকাছি থাকা এই পাখিটি প্রতিকূল পরিবেশে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। চড়ুই বছরে একাধিকবার প্রজনন করে। এক একবারে এরা চার থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে। পুরুষ ও স্ত্রী চড়ুই মিলে ছানা লালনপালন করে। তিন সপ্তাহের মধ্যেই ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। সাধারণত ৭০ শতাংশ ছানাই বেঁচে থাকে। চড়ুই সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচে।

উপকারী এই পাখিটিকে আমরা নানাভাবে বিলুপ্ত করে ফেলছি। চড়ুইয়ের সংরক্ষণের জন্য ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ২০ মার্চ বিশ্ব চড়ুই দিবস হিসেবে পালিত হয়।উপকারী এই পাখিটি নানাভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: যবিপ্রবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!