ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

নিজ হাতে কোরআন লিখছেন নুসরাত

এবিএস ফরহাদ, কুবি
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২৬ অক্টোবর ২০২৩
নিজ হাতে কোরআন লিখছেন নুসরাত
কুবির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত ও তার ক্যালিগ্রাফি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের প্রতিভাকে সৃষ্টিকর্তা পূর্ণতা দিয়েছেন একেকভাবে। মানুষ তার প্রতিভাকে বিকশিত করতে খোঁজে নতুন নতুন ভাবনা। কারো কণ্ঠে আবার কারো হাতের ছোঁয়ায় চিত্রে ফুটে উঠে প্রকৃতির রং, পরিচয় মেলে প্রতিভার। আবার কারো কারো প্রতিভা লুকায়িত থাকে তার কর্মে আর শিল্পে। 

এমনি এক অনন্য প্রতিভার অধিকারী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত রশীদ। ছোটবেলা থেকে স্কুলকলেজের প্রচলিত বাংলা ইংরেজি ভাষায় লেখার পাশাপাশি আরবি লেখাও পছন্দ করতেন তিনি। সেখান থেকে শুরু করেন ক্যালিগ্রাফি। যা অন্যান্য লেখার তুলনায় সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে অক্ষরে অক্ষরে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে সেভাবে আরবি লেখা হয়ে উঠেনি নুসরাতের। কিন্তু সবসময় তার আগ্রহ ছিল ভিন্ন ভাষার এই লেখায়। স্কুলকলেজের পাঠ চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শুরু করেন পুনরায়। সেখান থেকে নুসরাত ভাবনায় আসে ক্যালিগ্রাফি। 

Advertisement

প্রথমে ইউটিউব ব্যবহার করে ক্যালিগ্রাফি লেখা শুরু করলেও ধীরে ধীরে নিজে নিজে অনুশীলন করে শিখছেন তিনি। ইতিমধ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ লেখা শুরু করেছেন। কুরআনের দু'টি পারাও শেষ করেছেন। নুসরাতের ইচ্ছা ভবিষ্যতে কুরআন পূর্ণাঙ্গভাবে নিজ হাতে শেষ করবেন। 

নুসরাত জানান কীভাবে নিজেকে ক্যালিগ্রাফি শিল্পী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে আরবি হরফে, অক্ষরে লেখালেখি করতাম কিন্তু সেটি চালিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু শখ ছিল ক্যালিগ্রাফি করার সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার শুরু করা। প্রথমে ইউটিউব দেখে ক্যালিগ্রাফি করতাম, তারপর খাতায় আঁকাআকি করি কয়েকদিন। ধীরে ধীরে দেখি হাতের কাজ ভালো হচ্ছে। তারপর নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস নিয়ে পবিত্র কুরআন শরীফের বিভিন্ন সুরার ক্যালিগ্রাফি করি। এখন কোরআন শরীফের প্রথম এবং দ্বিতীয় পারা লেখা শেষ করেছি।

আরবি লেখার প্রতি আগ্রহ কীভাবে তৈরি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোটবেলায় আরবি শিক্ষক সবসময় আরবি লেখার হোমওয়ার্ক দিতেন। সেখান থেকে আরবি লেখা শুরু। সেটি যে আগ্রহের বিষয় হয়ে যাবে জানতাম না। তবে সেখান থেকে হাতেখড়ি হলেও বহুবছর লেখালেখি সম্ভব হয়নি। পরে ২০২১ সালে আবার শুরু করি, এখন নিয়মিত লিখছি।

ক্যালিগ্রাফি এখন নুসরাতের শখ থেকে নেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন বা কয়েকদিন পর পর ক্যালিগ্রাফি না করলে এখন প্রশান্তি লাগে না।
ভবিষ্যতে পেশা হিসেবে ক্যালিগ্রাফিকে বেছে নিতে চায় নুসরাত রশীদ। তিনি বলেন, এখনো আমি পুরোপুরি শিখতে পারিনি। তবে নিয়মিত শিখছি আমি। ধীরে ধীরে আমি একটি পবিত্র কুরআন শরীফ লিখতে চাই। এরপরে ক্যালিগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার ইচ্ছা আছে।

প্রসঙ্গত, সপ্তম শতাব্দীতে আরব বিশ্বে অন্যতম একটি শিল্প হয়ে উঠে ক্যালিগ্রাফি। এটিকে বলা হয় লিভিং আর্ট বা জীবন্ত শিল্পকলা। ইংরেজি শব্দ ক্যালিগ্রাফির বাংলা প্রতিশব্দ সুন্দর লেখা। অর্থাৎ অক্ষর ব্যবহার করে চমৎকার লেখনীই হলো ক্যালিগ্রাফি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!