ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ববি ক্যাম্পাস: মেঘ আর শুভ্র সাদা রাজ্য

জাকির হোসেন, ববি
প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ১০ অক্টোবর ২০২৩
ববি ক্যাম্পাস: মেঘ আর শুভ্র সাদা রাজ্য
কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ আর মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। শুনলেই মনের আঙ্গিনায় ভেসে উঠে শরৎকালের নাম। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা শরৎ ছাড়া আর কে ভাসাতে পারে? শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আকাশের সাদা মেঘের সঙ্গে কাশফুলের মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া প্রকৃতিতে শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। আর সেই শরতের কাশফুলে প্রাণ মুগ্ধ হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাস।

গ্রীষ্মের কাঠফাটা রৌদ আর শ্রাবণের অঝোর ধারার পর অনেকটা নিশ্চুপভাবে প্রকৃতিতে শরতের আগমনে ক্যাম্পাসের মনোমুগ্ধকর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে গেছে এক শুভ্রতার মায়া। অসীম নীল আকাশের সাদা মেঘের ভেলার নিচে কিংবা গোধূলি বিকেলের রক্তিম দীপ্তির সঙ্গে বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলদের দৃশ্য নজর কাড়তে বাধ্য হচ্ছে যে কারোরই।

প্রকৃতির কোল জুড়ে দিগন্তবিস্তৃত চিরসবুজের ক্যাম্পাসটি বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবর্তিত হয়। তাইতো শরতের স্নিগ্ধ নৈসর্গিকতায় মোড়ানো শুভ্র-সাদা কাশফুলের বাগানে ভিড় জমেছে প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের। 

Advertisement

কেউবা কাশফুলের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়ে জানাচ্ছে শরতের আগমনের  কথা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল অংশজুড়ে কাশফুলের সমারোহ৷ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তার পাশে, ছয় দফা, শহিদ মিনার, কেন্দ্রীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ বিভিন্ন জায়গায় মাথা উঁচু করে দোল খাচ্ছে কাশফুলের বাগান। সকাল কিংবা বিকেলে একটু অবসর মিললেই দলবেঁধে অনেকেই আসছেন কাশফুলের এই অনন্য রাজ্যে। কাশফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে হাজারো দর্শনার্থী৷ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা প্রিয়তমাকে সঙ্গে নিয়ে কাশফুলের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়ে জানাচ্ছে শরতের আগমনের  কথা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের পিছনে কোনো না কোনো কারণ লুকিয়ে থাকে৷ তেমনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সৌন্দর্যের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে শরতের এই কাশফুল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য অনেকগুণে বর্ধন করে তোলে ঋতুর পালাবদলে শরৎ এলে। কাশফুলের শুভ্রতার মায়া আর স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে যায় প্রতিটি অন্তরে।

ক্যাম্পাসটি বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবর্তিত হয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শরতের এই চোখ জুড়ানো মায়া বিমোহিত হয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন কাশফুলের কাব্য। 
তিনি লিখেছেন, 

‘ইচ্ছে করে ডেকে বলি, ওগো কাশের মেয়ে―
আজকে আমার চোখ জুড়ালো তোমার দেখা পেয়ে
তোমার হাতে বন্দী আমার ভালোবাসার কাশ
তাইতো আমি এই শরতে তোমার কৃতদাস।’

বাংলা বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহজাদি হক বলেন, শরৎ মনে জাগিয়ে দেয় কাশফুল, স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ আর দিগন্তবিস্তৃত সবুজের কথা। কাশফুলের গন্ধ নেই, কাশফুল প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়ার ফুলও নয়। তবে ক্যাম্পাসের কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!