হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তিনবেলা খেতে। ডায়নিংয়ে অপরিষ্কার পরিবেশে, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবারে বিপাকে পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের খেতে হচ্ছে বাইরের দোকানগুলোর খাবার।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের ডায়নিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার ডায়রিয়ায়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি।
.png)
সরেজমিন দেখা যায়, রান্নার ঘরের শোচনীয় অবস্থা। অপরিষ্কার পাত্রগুলো এখানে সেখানে পড়ে আছে। তার পাশেই কাটা হচ্ছে সবজি, মাছ, মাংস। মশলার পাত্র খোলা পড়ে আছে একপাশে।
খাবার রাখার আলমিরার অবস্থাও আরো নাজুক। আলমিরার সামনের দরজা ভাঙা, ভেতরে রান্না করা মাছ, মাংস, সবজি খোলা অবস্থায় রাখা। ভাতের ডেকও খোলা অবস্থায় রেখে পরিবেশন করা হচ্ছে। মশা-মাছি খোলা খাবারের ওপরে পড়ছে হরহামেশাই।
খাবার রাখার ঘরের পাশেই খোলা দরজার ওয়াশরুম। খোলা ওয়াশরুমের পাশেই রাখা হয়েছে খাবার। ডায়নিংয়ের প্লেটগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। অধিকাংশ মেলামাইনের প্লেটগুলো ফাটা।
ডায়নিংয়ে খেতে আসা ১০ থেকে ১৫জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হেলে তারা জানান, কখনো মাংস থেকে আবার কখনো ডাল থেকে মাছের গন্ধ আসে। যে তেল দিয়ে মাছ ভাজা হয় ঐ তেল দিয়েই আবার এসব তরকারি রান্না করা হয়। ডাইনিং অপরিষ্কার, যার কারণে ডাইনিংয়ে বাসে খাওয়া অসম্ভব। ডায়নিংয়ের বেসিনগুলো অপরিষ্কার। নিয়মিত সাবানটাও দেওয়া হয় না বেসিনগুলোতে।
শেরে বাংলা হলের ৪০১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এ হলে খবারের মান ও পরিবেশনের ব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের। বাসি খাবার পরবর্তী খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভোলা রোডের বিভিন্ন হোটেলে খাবার খেতে হয়।
ক্যান্টিন পরিচালক বিল্লালের সঙ্গে কথা হলে বলেন, ‘এখন রান্নার কাজ চলছে, তাই পাত্রগুলো এলোমেলো রাখা। আমরা নিয়মিত রান্নার পরে পাত্র পরিষ্কার করি। আর এই খাবার আমিসহ আমার কর্মচারীরা খায়। আমরা চেষ্টা করছি ভালোভাবে রান্নায় জন্য।
তিনি হল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, আমি একাধিকবার বলেছি খাবারের একটা নতুন আলমারি দিতে, ওয়াশরুমের দরজাটা লাগিয়ে দিতে। কিন্তু, একবছরেও তা দেয়নি। ক্যান্টিনের পিছনের দুটি লাইটই নষ্ট, গেটটাও আটকানো যায় না। এসব নিয়ে বারবার বলেও কোন সুরাহা হয়নি।
তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনের প্লেট-গ্লাস-জগ নিজেদের কক্ষে নিয়ে গেলেও তা আর ফেরত দেয় না। স্টিলের প্লেট ছিল ১৩০পিচ, এখন আছে ৬০পিচ।
খোলা অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে স্বাস্থ্যের উপর কেমন ধরনের প্রভাব পড়ে? এমন প্রশ্নে ববি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র ডা. মো. তানজিন বলেন, ‘খাবার প্রথমত কোনভাবেই খোলা রাখা যাবে না, এতে মশা মাছি বসে খাবারে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে পেটের পীড়া ডায়রিয়াসহ নানারকম রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
ক্যান্টিনের অব্যবস্থাপনা ও সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে হলের সেকশন অফিসার মো. জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নতুন প্লেট দেওয়ার আর ভাঙ্গাগেট ও আলমারির বিষয়টা আমরা অবগত। আশা করছি অতিদ্রুত এগুলো সংস্কার করা হবে। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে, একটা বিষয়ের ফাইল পাশ হতে বিল হতে দেরি হয়। বিল পাশ হলেই আমরা সব ঠিক করে দিব।’
এ বিষয়ে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট আবু জাফর মিয়া বলেন, বর্তমান বাজার দরে ক্যান্টিনে যে দামে খাবার সরবরাহ করা হয় তা খুবই কঠিন। তারপরও খাবারের মান নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সন্তুষ্ট বলে আমি মনে করি। আমি ডাইনিং পরিচালকদের ভালোভাবে বলে দিয়েছি, তারা যেন পরিষ্কার পরিছন্নতা বজার রাখে। আমি নিজেও হলের রান্নার ঘর, খাবার রাখার জায়গাগুলো পরিদর্শন করি। কোনরকম অসংগতি দেখলে ব্যবস্থা নিই। তাছাড়া হলে সপ্তাহের ৩-৪দিন দুপরে আমার খাবার খাওয়া হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের নানারকম সীমাবদ্ধতা আছে তারপরও আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে সার্বিক বিষয়গুলো দেখার চেষ্টা করছি।