ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

সেশনজটে বাড়ছে জাবি শিক্ষার্থীদের হাহাকার

ফারুক রহমান, জাবি
প্রকাশিত: ১২:১৪, ১৮ এপ্রিল ২০২৩
সেশনজটে বাড়ছে জাবি শিক্ষার্থীদের হাহাকার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের কবলে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় প্রতিটি বিভাগেই এক থেকে দুই বছরের সেশনজট রয়েছে। একইসঙ্গে বিভাগগুলোতে রয়েছে ছয় থেকে সাতটি করে ব্যাচ। এখন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার থেকে প্রত্যেকটি ব্যাচই পিছিয়ে রয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে পাঁচ বছর সময় লাগার কথা থাকলেও সেখানে লাগছে প্রায় সাত বছর। যা নিয়ে একইসঙ্গে ক্ষুব্ধ এবং হতাশ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৪টি বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউটে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং অ্যান্ড জিআইএসে শুধু স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। এই ইনস্টিটিউট ছাড়া বাকি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে এখন এক থেকে দুই বছরের সেশনজট রয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকে সেশনজটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত দেড় বছরে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের পর সেই আগের মতোই গাছাড়া শিক্ষকরা। অনেকেই সময়মতো পাঠদান ও পরীক্ষা নেন না। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ উইকেন্ড কোর্স ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোতে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ তাদের।

করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান চালুর সময় সেশনজট নিরসনে শিক্ষাবর্ষ দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম। তবে উপাচার্যের এ ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি।

২০২১ সালের জুনে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। তখন অধিকাংশ বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর হতে চলল এখনো কয়েকটি বিভাগ ঐ ব্যাচের স্নাতকোত্তর শেষ হয়নি।

গত দুই বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ছাত্র সংগঠনের বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এক দিনের জন্যও বন্ধ ছিল না। ছাত্র সংগঠনগুলোর বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে শ্রেণিকার্যক্রমও ব্যাহত হয়নি। তবু শিক্ষার জট ছাড়ার বদলে পাকিয়েছে। এত দিনে ৪৬তম ব্যাচের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে সম্প্রতি ৪৫তম ব্যাচের কয়েকটি বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে। পরীক্ষা দিয়ে এখনো ফল প্রকাশের অপেক্ষায় আছে কয়েকটি বিভাগ। আর ৪৬তম ব্যাচের কোনো বিভাগেরই স্নাতকোত্তর হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফার্মেসি ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ করতেই লেগে গেছে সাত মাস। ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়া, নির্ধারিত সময়ে পাঠদান ও পরীক্ষা শেষ না করার মতো ঘটনাগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে খুবই পরিচিত। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন অনেক শিক্ষার্থী। পরিবারকে সহায়তা করতে না পারার কষ্টও আছে তাদের মধ্যে। 

নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়া, পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতাকে সেশনজটের প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাবও রয়েছে। আবার অনেকেই মনে করছেন, উইকেন্ড কিংবা সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক কোর্সে সময় দিতে গিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জহির ফয়সাল বলেন, ‘সেশনজট নিরসন করতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় না। ঠিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া হয় না। এ কারণেই আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ বলেন, ‘শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস পরীক্ষা না নিলে তাদের বাধ্য করার বিধান আসলে নেই। শিক্ষকতার এই পেশায় শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে আদর্শের জায়গা ঠিক রাখা উচিত, দায়িত্বে জায়গায় যথাযথভাবে কাজ করা উচিত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘সেশনজট নিরসনে বিভাগগুলোতে সময়মতো এবং দ্রুততার সঙ্গে পাঠদান শেষ করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। পরীক্ষার ফল প্রকাশে যেন বিলম্ব না হয় সেদিকেও দৃষ্টি রয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে মূলত জাতীয়ভাবে একটু জট রয়েছে। কিছুদিন আগে একটি ব্যাচের ক্লাস শুরু হলো। আবার সামনে আরেকটি ব্যাচ আসবে। তবে আমরা সেশনজট কমাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এতে কারো গাফিলতি থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!