ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

কীর্তনখোলা আর ববি: শিক্ষাজীবনের স্মৃতিময় পদচিহ্নে ছবি

জাকির হোসেন, ববি
প্রকাশিত: ১৬:২৫, ৯ এপ্রিল ২০২৩
কীর্তনখোলা আর ববি: শিক্ষাজীবনের স্মৃতিময় পদচিহ্নে ছবি
কীর্তনখোলায় ববি শিক্ষার্থীরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘কীর্তনখোলা’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক নদীর দৃশ্য ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এই নদীর সঙ্গে বরিশালের মানুষের নাড়ির সম্পর্ক। আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছেও এই নদী স্থান পেয়েছে হৃদয়ের অন্তঃস্থলে। নদীর সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ছবিগুলো স্মৃতিময় পদচিহ্নের উদাহরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  

কীর্তনখোলার কোলজুড়ে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ৫০ একরের সবুজ সমারোহ, স্বপ্নের-স্মৃতির, মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাসটি বহুগুণে গুণান্বিত করেছে কীর্তনখোলা নদীটি।

কীর্তনখোলা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

Advertisement

কীর্তনখোলার সঙ্গেও প্রেম জমেছে এখনকার শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা তাদের সুখ-দুঃখ বেদনার সঙ্গী হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন নদীকে। সবার ক্লাস শেষে, পড়ন্ত বিকালের সূর্যের লাল আভাই, কেউবা আবার জোছনা উপভোগে বেঁছে নেয় এই নদীর তীর। এখানে জমে হাজার না বলা গল্প! জমে প্রেমের রসায়ন।

নদীর সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্মৃতিগুলো মায়ায় জড়ানো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা আফসার মৌরী বলেন, কীর্তনখোলা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। বইয়ের সিলেবাস যখন মাথায় বোঝা হয়ে বসে, শিক্ষার্থীদের তখন মুক্তির একমাত্র উপায় কীর্তনখোলা নদীর পাড়। দলবেঁধে বন্ধু-বান্ধব নদীর পাড়ে এসে আড্ডা দিলে মুহূর্তে মন ভালো হয়ে যায়। আর পাশে যদি থাকে প্রিয় মানুষের হাত, তবে তো আর কথাই নেই!

কীর্তনখোলার কোলজুড়ে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

কীর্তনখোলার নদীর এই অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে কথা হয় আরেক শিক্ষার্থী আল ফারিউল শিক্তের সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরা সবাই কীর্তনখোলার মুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করি। বন্ধুরা মিলে এই নদীর পাড়ে বনভোজন করি। প্রকৃতি আর নদী, জোয়ার-ভাটার এক অপরূপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। তবে এই সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। নদী ভাঙ্গনে, নদী দখলসহ এই নদীকে রক্ষা করতে হবে।

কীর্তনখোলার নদীর অপরূপ সৌন্দর্য। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, কীর্তনখোলা নদী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। শিক্ষার্থীদের কাছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম এই নদীটি। পড়ালেখার একঘেয়েমি দূর করতে বিকেলে নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়া প্রেমিক যুগলের মন ভালো করতে এই নদীর বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব মিলে নৌকা ভ্রমণসহ আমার শত স্মৃতির সঙ্গী এই নদী।

শিক্ষার্থীদের শত স্মৃতির সঙ্গী এই নদী।

ভরা জোছনায় ‘কীর্তনখোলা’ সৌন্দর্যে বিমোহিত হবে যে কেউ, কী যে অপরূপ রূপবতী.. তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এভাবে মন্তব্য করছিলেন জাহিদ আহনাফ নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বিকেলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি রাতের সৌন্দর্যও আমরা দলবেঁধে উপভোগ করি। নদীতে নৌকা চালাই। নৌকায় করে মাঝ নদীতে রাতের বেলায় চাঁদের আলো দেখি! পাশাপাশি ক্ষণে ক্ষণে আকাশ আর নদীর রং বদলের খেলাও দেখি! এসব সৌন্দর্য হৃদয়ে ধারণ করার সুখটা যে কতোটা অনন্য, তা প্রকাশ করার নয়। শুধু ফিসফিস করে বললাম, ভালোবাসি.. ভালোবাসি তোমায়…!

নৌকায় করে নদীতে ভ্রমণ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!