হরেক রকমের পাখি মেলা বসেছে সেখানে। প্রথম দেখায় তাদের জীবন্ত মনে হলেও তারা জীবন্ত নয়। তাদেরকে রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর মেলায় দর্শনার্থীদের পাখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে কাছ থেকে পাখি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় শুরু হয় এই মেলা। এরপর পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। মেলাটির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ড কনজারভেশন ক্লাব। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন, রাবি শাখা।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, চারদিকে সাদা-লাল রঙের সালু ঘিরে ঘেরা একটি জায়গা। সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টল। এর মধ্যে একটি স্টলে রাজশাহী নগরী ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে পাখিদের তোলা দুর্লভ কিছু ছবি রাখা হয়েছে। আর পাশেই আরেকটি স্টলে বড় এলইডি রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পাখির ছবি ও ভিডিও দেখানো হচ্ছে। পাখিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের।

স্টলে পাখির ছবির মধ্যে রয়েছে- ধলাকোমর মুনিয়া, ইউরেশিয় চামচ ঠুঁটি, বুটপা ঈগল, রঙিলা চ্যাগা, খয়রা মাথার সুঁইচোরা, সাদাগলা মানিকজোড়, সবুজ চাপাখি, তিলা লাল পা, ছোট ডুবুরী, ডাহুক, নদী টি টি, বামুন শালিক, জল ময়ূর, কালোপিঠ গাংচিল, বাদামী ঝিল্লি, পালাসির গাংচিল, সাইবেরিয় শিলাফিদ্দা, লম্বাপা তিলাবাজ, নীল চটক, উইলসন্স স্টর্ম পেট্রল, লালঘাড় কাস্তেচোরা, তিলা লালবাটান, উল্টেঠুঁটি, ছোট বাবুবাটান, খুড়ুলে পেঁচা, কালোমাথা কাস্তেচোরা, উদয়ী গয়ারসহ আরো বিভিন্ন রকমের পাখি।
পাশের স্টলে রয়েছে পাখির প্রদর্শনী। সেখানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে- পানকৌড়ি, জল কাক, পাতি তিলি হাঁস, ডোরা কাঠবিড়ালি, কোয়েল, পাঁতি কাক, নিশি বক, বালি হাঁস, তুর্কি বাজ, টিয়া, লক্ষ্মী পেঁচা, হুতুম পেঁচা, গরিয়াল মাছরাঙা, চোখাচোখি, সাতভাই প্রভৃতি। এইসব পাখিগুলো রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা।
পাখি মেলার মূল আকর্ষণ ছিল স্কুলের বাচ্চাদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ক্যাম্পাসের আশেপাশের বিভিন্ন স্কুলের নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। লম্বা সাদা কাগজে তারা ফুটিয়ে তুলে টিয়া, মাছরাঙা, বক, শালিক, ময়নাসহ বিভিন্ন পাখির ছবি। প্রতিযোগিতায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
মেলায় বাবার সঙ্গে ঘুরতে ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে এসেছেন শহিদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিহা নওশীন। তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। নতুন নতুন অনেক পাখি দেখেছি যা আগে কখনো দেখিনি। এমন আয়োজন সবসময় চান এ ক্ষুদে শিক্ষার্থী।

ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন রাবি শাখার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তাসিব বলেন, অনেকের ধারণা পাখি মেলায় আসলে আমরা খাঁচার বন্দি বা কাছ থেকে জীবন্ত পাখি দেখতে পাবো। ব্যাপারটা সে রকম নয়। পাখিরা মুক্ত তারা সবসময় মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াবে। তাদের সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পাখি মেলা। পাখিদের সঙ্গে পরিচয় ও তাদের আচার-আচরণ, বসবাস প্রণালি সম্পর্কে জানতে পারবে এই মেলার মাধ্যমে। আমাদের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বাচ্চাদের পাখি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে পাখি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হবে, পাখি সম্পর্কে তারা জানবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ড কনজারভেশন ক্লাবের আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. এ. এম. সালেহ রেজা বলেন, বাংলাদেশে এমন অনেক পাখি আছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এসব পাখিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করে দিতে, পাখির প্রতি তাদের মমত্ববোধ তৈরি এবং পাখি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করতেই আমরা এই মেলার আয়োজন করেছি।
তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পুকুর এবং নারকেলবাড়িয়া ক্যাম্পাসে প্রচুর পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। তাদের সংরক্ষণে আমাদের সচেতন হতে হবে। তাদেরকে যদি আমরা থাকার উপযুক্ত পরিবেশ না দিয়ে ঢিল ছুঁড়ে বিরক্ত করি তাহলে তারা আতঙ্কিত হয়ে অন্যত্র চলে যাবে। পাখিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা যাবে না।