তুরস্কে উচ্চশিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যা জানা জরুরি
ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় ইউরোপের সমৃদ্ধ এক দেশ তুরস্ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা দেশটিতে পড়তে আসে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অভিজাত ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য ছুটে আসেন এখানে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন বাংলাদেশের শাকিল রেজা। তিনি জানাচ্ছেন আরো বিস্তারিত।
‘তুরকিয়ে বুরসলারি’ স্কলারশিপ
এটি তুরস্কের সরকারি স্কলারশিপ বা শিক্ষাবৃত্তি। এই শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ-সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রোগ্রাম ও প্লেসমেন্ট, টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা, বিনা মূল্যে তুর্কি ভাষা শেখার এক বছরের কোর্স, স্বাস্থ্যবিমা, মাসিক সম্মানী ভাতা, একবার তুরস্কে আসা এবং একবার নিজ দেশে যাওয়ার বিমান টিকিট।
মাসিক সম্মানী ভাতায় স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০০ লিরা, স্নাতকোত্তরদের জন্য ১ হাজার ১০০ লিরা ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৬০০ লিরা দেয়া হয়।
স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশোনা করতে পারবেন। আবেদনের জন্য স্নাতকের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর-পিএইচডির জন্য স্নাতক-স্নাতকোত্তরে ৭৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হয়। তবে মেডিকেলে ভর্তি হতে চাইলে ৯০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন। তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থায় মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরগুলো বেশ সমৃদ্ধ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত বৃত্তিও রয়েছে।
টিউশন ফি
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রোগ্রামের টিউশন ফি ২৪০ থেকে ৭৫০ ডলার। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় টিউশন ফি ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের টিউশন ফি যথাক্রমে ৩০০ থেকে ৬০০ ও ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার।
সুযোগ-সুবিধা
তুরস্কের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ উপযোগী। একজন শিক্ষার্থীর জন্য মাসে থাকা-খাওয়ার খরচ, পোশাক, পরিবহন, টেলিফোন খরচ বাবদ ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যায়।
ভর্তির প্রক্রিয়া
তুরস্কে পড়াশোনার ভাষা তুর্কি হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি কোর্স রয়েছে। তবে তুর্কি ভাষাটা দৈনন্দিন কাজের জন্য শেখা জরুরি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর প্রয়োজন হয়, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা লাগে না। আগ্রহীরা কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিতে আবেদন করতে বয়স যথাক্রমে অনূর্ধ্ব ২১, ৩০ ও ৪৫ বছর হতে হবে।
যেসব কাগজপত্র দরকার হবে–
১. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট।
২. আবেদনকারীর সম্প্রতি তোলা স্পষ্ট ছবি।
৩. বোর্ড পরীক্ষার নম্বর।
৪. ডিপ্লোমা অথবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণের অস্থায়ী সনদ।
৫. একাডেমিক নম্বরপত্র।
৬. আন্তর্জাতিক স্কোর, যেমন স্যাট, জিম্যাট, জিআরই (যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়)।
৭. ভাষা সার্টিফিকেট।