অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবে নোবিপ্রবি
করোনাভাইরাসের কারণে ছুটি আরো দীর্ঘমেয়াদি হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর কথা ভাবছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)।
করোনার প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনার বাইরে। অনলাইনে ক্লাস শুরু করতে পারেনি অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলো। করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনরা জানান, এই সমস্যা কবে সমাধান হবে কেউই নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না সেজন্য অনলাইনে ক্লাস নেয়ার বিকল্প নেই। তবে শিক্ষার্থীদেরও নেটওয়ার্ক জনিত কিছু সমস্যা হবে বা অনেকের ডাটা কিনার সামর্থ্য হবে না। গত একাডেমিক কাউন্সিলর বৈঠকে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছিলো। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস চালু করলে যেসকল সমস্যা খুজে পাবো সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলর বৈঠকে সমাধানের চেষ্টা করবো।
শিক্ষার্থীরা যাতে ডাটা প্যাকেজ কিনে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ক্লাস শেষ করতে পারে সে অনুযায়ী ক্লাস শিডিউল দেয়া হবে। আর যদি এমন কোনো শিক্ষার্থী থাকে আর্থিক সংকটের কারনে ডাটা প্যাকেজ কিনার সামর্থ্য নেই তারা তাদের কোর্স কোর্ডিনেটরের সাথে সমস্যার কথা জানাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা থেকে দূরে চলে না যায় সেজন্য অনলাইন ক্লাস চালু করা উচিত। আমরা অনলাইনে ক্লাস নেয়ার জন্য অফিসিয়ালি একটা নোটিশ দেবো। যেহেতু এই পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না সেহেতু আমাদের উচিত অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া। অনেক বিভাগে সামর্থ্য অনুযায়ী ক্লাস চালিয়ে নিচ্ছে। সবগুলো বিভাগেই চালিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা চলছে।
এবিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. দিদার-উল-আলম জানান, অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে কিছু বিভাগ সীমিত আকারে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে যারা গ্রামে অবস্থান করেছে তারা পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। এছাড়া ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ব্যবহার করার সামর্থ্য অনেকের নেই।
আর যেহেতু এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হওয়ার দিকে যাবে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সেহেতু আমরা অনলাইনেই কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার কথা ভাবছি। অনলাইন ক্লাসগুলো সবাইকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হবে না তবে যতটুকু সম্ভব হয় চালিয়ে নেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনার কাছাকাছি থাকে সেজন্য প্রতিটি বিভাগেই শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার আহবান করছি।