ফল প্রকাশে আশা দেখাচ্ছে জাবি, হলে প্রবেশে না
জমে থাকা রেজাল্ট প্রকাশ ও এরই মধ্যে যেসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে শিক্ষকরা সেসবের খাতা দেখা সম্পন্ন করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে পাঠালে ফলাফল প্রদানে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। সপ্তাহে দু’দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস খুলবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট দেয়া কিংবা সিনেট অধিবেশন সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাজেট অনুমোদন করে পরে তা সিনেটকে অবহিত করতে পারেন। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজন হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) আয়োজনে 'জাবিসাস আলাপন' শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন ও প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ এসব কথা জানান।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অফিস খোলা হলে তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস।
আগামী একমাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা গেলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অধ্যাপক মো. আমির হোসেন।
তিনি বলেন, আগামী একমাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারলে গত কয়েকমাসের সংকট পুষিয়ে নেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রণোদনা দিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস এবং শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সপ্তাহে দু’দিন খুলবে। শিক্ষকরা খাতা দেখে তা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দিলে রেজাল্ট প্রকাশের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। এরইমধ্যে যাদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে তাদের ফলাফল কোনো পদ্ধতিতে দ্রুত দেয়া যায় কিনা এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।
জাবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব আলমের পরিচালনায় ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, করোনা সহজে না গেলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে একটু ধীরগতি হতে পারে। আমরা প্রথমে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করবো। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক শিক্ষার্থীই অংশ নিতে পারবে না। ফলে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমটা বৈষম্যের সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ বিষয়টা আমাদের গভীরভাবে ভাবাচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন থাকায় বিশেষ প্রয়োজনে হলেও শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন থাকায় এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রয়োজনের জন্যও হলগুলো খুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর শরীরে করোনা পজিটিভ আসে। এরমধ্যে একজন শিক্ষার্থী এরইমধ্যে করোনামুক্ত হয়েছেন। তবে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থানরত কেউ এখনো আক্রান্ত হননি বলে জানিয়েছেন এই শিক্ষকরা।