ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

নতুন ঋণ পেতে ব্যাংককেই বাংলাদেশের নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:১২, ১২ অক্টোবর ২০২৬
নতুন ঋণ পেতে ব্যাংককেই বাংলাদেশের নজর
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা। সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ সভা চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। নতুন ঋণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা এবারের আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। 

ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে। দলে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারের লক্ষ্য, আইএমএফের সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংককে আইএমএফের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। 

নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্তগুলোর মধ্যে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিরসন এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির নির্ভরযোগ্য হিসাব তৈরি, আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং রাজস্ব আদায়ের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জ্বালানি খাতে কর আরোপ বা শুল্কসংক্রান্ত পরিবর্তনের বিষয়টিও সম্ভাব্য শর্ত হিসেবে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকও। সংস্থাটির ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। বিনিয়োগে দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকিকে অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে, যা সরকারের উন্নয়ন ব্যয় ও জনসেবায় অর্থায়নের সক্ষমতাকে সীমিত করছে। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। 

বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঋণের শর্ত পূরণ এবং সংস্কারের সুফল অর্থনীতিতে নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, করের আওতা বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা উন্নত করতে না পারলে অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে। একই সঙ্গে ভর্তুকি বা জ্বালানি করের মতো নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদনের ওপর প্রভাব বিবেচনায় রাখা জরুরি। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়টিও সংস্কার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের বার্ষিক সভায় ১৯১টি দেশের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআর/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!