ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

ব্যাংক খাত সংস্কারে আসছে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাংক খাত সংস্কারে আসছে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ খেলাপি ঋণ ও সুশাসনের সংকটে দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী সমাধান না আসায় এবার ব্যাংক খাত সংস্কারে নতুন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। এতে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।

‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামে প্রায় ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হবে চলতি মাসে এবং ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Advertisement

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১২ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। কমিশনের মতে, ব্যাংক খাতের সংস্কার, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতের স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের যে লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, প্রকল্পটি তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।

প্রকল্পের প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, দুটি কম্পোনেন্টের মাধ্যমে এর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম কম্পোনেন্টে ব্যাংক খাতের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো ও পদ্ধতিগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ এবং পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় কম্পোনেন্টে আর্থিক খাতের সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকিং পুনর্গঠনের কার্যক্রম থাকবে। এর আওতায় আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদার, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সাইবার হামলা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে। পুরোনো আইসিটি অবকাঠামো ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ আমানতকারীদের আস্থা এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য ৪ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-১’ (এফএসএসপি-১) বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। আগের প্রকল্পের আওতায় কেনা যন্ত্রপাতি ও পণ্যসামগ্রী নতুন প্রকল্পে ব্যবহারের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন পরামর্শ দিয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করেছে। বৈদেশিক অর্থায়নের বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মতিপত্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নের নিশ্চয়তাপত্র টিএপিপিতে সংযুক্ত করাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের সিল-স্বাক্ষর সংযুক্ত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব পরামর্শ অনুযায়ী প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এফএসএসপি-১-এর আইটি কম্পোনেন্টের আওতায় স্থাপিত ডেটা সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে কিছু যন্ত্রপাতি ও পণ্য ইতোমধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সেগুলো আগের প্রকল্প থেকে নতুন প্রকল্পে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!