ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

লাইসেন্স ছাড়া পেমেন্ট ব্যবসা, ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লাইসেন্স ছাড়া পেমেন্ট ব্যবসা, ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ফাইল ছবি

লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত ২২টি অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার পাঠানো ওই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট ও গুগল প্লে স্টোরে থাকা অ্যাপ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়া পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর হিসেবে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বহুদূর পে, জিনিপে, পে-টিলার, বেঙলি পে, পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপে ওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজঘর পে, আস্থা পে, উদ্যোক্তাপে, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটি পে, ইজিপে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজি পে, অটো পে লিমিটেড, বিশ্বস্ত ও পিপড়াপে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ প্রতারণার শিকার হলে তার দায় বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ কারণেই ২২টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ এবং গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপগুলো সরিয়ে নিতে বিটিআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর মূলত এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। এতে প্রতিটি ব্যাংক বা পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে আলাদাভাবে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন হয় না।

তবে অননুমোদিত পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটরের মাধ্যমে লেনদেনে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ লাইসেন্সধারী পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যে ধরনের নিয়ন্ত্রক নজরদারি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে তা নিশ্চিত নাও হতে পারে।

কোনো অ্যাগ্রিগেটর নিজস্ব হিসাবে গ্রাহকের অর্থ গ্রহণ করলে প্রতিষ্ঠানটি তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব, প্রতারণা, হিসাব জব্দ বা পরিচালনাগত সমস্যায় পড়লে সেই অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীর লেনদেন পরিচালনা করতে পারে। ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে একসঙ্গে অনেক গ্রাহক ও ব্যবসায়ীর অর্থ অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!