ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

দরপতনে ডিএসইর মূলধন কমলো ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:২২, ৭ মার্চ ২০২৬
দরপতনে ডিএসইর মূলধন কমলো ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার পাঁচগুণের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। 

এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। একই সঙ্গে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমেছে। পাশাপাশি কমেছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় স্থান হয়েছে ৫ দশমিক ৫১ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের।  

Advertisement

এমন দরপতন হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।  

বাজার মূলধন বড় অঙ্কে কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকেরও বড় পতন হয়ছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।  

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৫৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।  

ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৬৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯৩ শতাংশ।  

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।  

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, রবি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ব্যাংক এশিয়া, বেক্সিমকো ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং ইস্টার্ন ব্যাংক। 

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)
এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ৪.৯৪ শতাংশ ও ৫.৪৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৮২৫.১৩ পয়েন্টে ও ৯০৬০.৫১ পয়েন্টে।
  
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক কমেছে ৬.০৬ শতাংশ। সূচকটি অবস্থান করছে ১১৩৪.৩২ পয়েন্টে। আর সিএসই-৩০ সূচক ৭.০১ শতাংশ ও সিএসআই সূচক ৪.৭৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৩১৯৭.০৭ পয়েন্টে ও ৮৮৯.৫৬ পয়েন্টে।
 
চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১০৬ কোটি ২ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ২১৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির কোম্পানির শেয়ার দর।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!