প্রথম মিনিটের ভয়াবহ পতনের পরও কিছু ক্রেতা সক্রিয় ছিলেন, ফলে সূচক কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে বিক্রেতার চাপ বেশি থাকায় সূচক এখনো বড় পতনের মধ্যেই রয়েছে। সকাল ১০টার দিকে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। প্রথম ১০ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক ১০০ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করে। এ সময় পর্যন্ত ২৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।
.png)
এদিকে সবকটি মূল্যসূচকে বড় পতন হলেও ক্রেতার উপস্থিতি ভালো লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। গত বৃহস্পতিবার বাজারটিতে ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৪ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা শেয়ারবাজারকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। ইরানে হামলার খবর শোনার পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে বিক্রির চাপ তৈরি করেছেন। বিশেষ করে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা, যেটি বাংলাদেশে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি করতে পারে, পুঁজিবাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করেছেন। তবে বাজার দীর্ঘমেয়াদে পুনরুদ্ধার হতে পারে, বিশেষ করে যদি বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ বিক্রি বন্ধ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নতুন গভর্নরের ইতিবাচক বার্তার কারণে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গিয়েছিল। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার খবর এই উত্থানকে বাধাপ্রাপ্ত করে বড় দরপতনের দিকে পরিচালিত করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন ধৈর্য ধারণ ও পরিস্থিতি মনিটর করার সময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।