ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

স্বাভাবিক গতিতে চলছে গার্মেন্টস খাত

শাহ আলম নূর
প্রকাশিত: ১৭:০২, ১৬ অক্টোবর ২০২৪
স্বাভাবিক গতিতে চলছে গার্মেন্টস খাত
গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

* গত এক সপ্তাহে কোথাও ঘটেনি অপ্রীতিকর ঘটনা
* অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রোডম্যাপ চান মালিকরা
* অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান

কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে অনেক পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত ছিল। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। পোশাক খাতের অস্থিরতা কাটিয়ে আশুলিয়াসহ দেশের শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানাতেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকরাও নিয়মিত কাজে যোগ দিচ্ছেন। হাতেগোনা কয়েকটি পোশাক কারখানা বন্ধ আছে। সাধারণ ছুটি রয়েছে ৫টি কারখানায়। গত এক সপ্তাহে কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে গার্মেন্টস খাতের অস্থিরতা নিয়ে অপপ্রচার চলছে। প্রথমদিকে অস্থিরতা থাকলেও সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়ায় এই খাত এখন স্বাভাবিক। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিইপিজেডসহ আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় দলবেঁধে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে র‌্যাব, পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক পাহারায় থাকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা মাধ্যমে চলা অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে দেশের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

Advertisement

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে নতুন করে এ অঞ্চলে কোনো কারখানা বন্ধ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের অস্থিরতার কারণে হাতছাড়া হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্ডার। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাওয়ায় গত দুই মাসে অন্তত তিন বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকের অর্ডার ভারত, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশে চলে গেছে।

এ অবস্থায় রফতানি কমার পাশাপাশি দীর্ঘদিন প্রণোদনার টাকা আটকে থাকায় তারল্য সংকটে পড়েন পোশাক কারখানার মালিকরা। সংকট কাটাতে বেতন-ভাতা পরিশোধে স্বল্প সুদে ঋণ এবং এই খাতকে স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রোডম্যাপ চান তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। হাতেগোনা কিছু কারখানা শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় বন্ধ আছে। যেহেতু পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে, তাই আমরা মালিকপক্ষ ও বিজিএমইএকে অনুরোধ করব এসব কারখানাও খুলে দিতে। তা না হলে এই বন্ধ কারখানাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

গত ৪০ বছরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশের শীর্ষ রফতানি খাতে পরিণত হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। যদিও বৈশ্বিক মন্দায় ক্রয়াদেশ ও পোশাকের দাম কমে যাওয়াসহ গত তিন বছর ধরে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এই খাতকে। সবশেষ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বন্যায় স্বাভাবিক আমদানি-রফতানি ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন রফতানিকারকরা। আগের ধকল কাটতে না কাটতেই গাজীপুর, আশুলিয়াসহ ঢাকার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ইমেজ সংকটে পড়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান এই খাত। এমন প্রেক্ষাপটে গত দুই মাসে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হয়। সংকট উত্তরণে নীতি সহায়তার পাশাপাশি সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছেন মালিকরা।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পোশাক খাতের প্রতি সরকারের সুনজর থাকতে হবে। পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার এসেছে। এটার প্রতি যদি নজর না থাকে তাহলে আরো বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়তে হতে পারে।

বিজিএমই নেতাদের অভিযোগ, উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট নিরসনে ব্যাংকগুলো কোনো সহায়তা করছে না। সরকার পোশাক কারখানাগুলোকে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দাবি করায় তা কাজ আসছে না।

বিজিএমইএর সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক থেকে আমরা সেই সহযোগিতা পাচ্ছি না এবং সুদহার অনেক বেশি। ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প, যারা সমস্যায় আছে, তারা কিন্তু টাকা পাচ্ছে না। এজন্য সরকারকে সহযোগিতা ছাড়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাতে মোট রফতানির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫৭ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হলেও পোশাক খাতে লক্ষ্য এখনো ঘোষণা করেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে পোশাক খাতে রফতানি কমেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও স্কয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তপন চৌধুরী বলেন, পোশাক খাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করলেও বিগত সরকারের দেড় যুগের বেশি সময়ে ব্যবসায়ীরা যে অবস্থায় মধ্য দিয়ে গেছেন, তার চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এ সময়ে ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি স্বস্তিতে আছেন।

তিনি বলেন, আমরা আসলেই খুব কমফোর্টেবল ফিল করছি। একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারের অফিসগুলোতেও আমরা বড় ধরনের একটা পরিবর্তন লক্ষ করছি— আগে যেখানে কথাই বলা যেত না, প্রশ্নই করা যেত না। এখন সেসব নেই। তবে সরকারকে এই খাতের দিকে আরো কঠোর নজর দিতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!