ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

আটককৃত মার্সিডিজ গোপনে খালাস, কাস্টমসে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:১৯, ১০ মে ২০২৪
আটককৃত মার্সিডিজ গোপনে খালাস, কাস্টমসে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্ট সেলের (সিআইসি) আটককৃত (লক) তিনটি নতুন মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি বেআইনিভাবে খালাস করে দিয়েছে ঢাকার কমলাপুরের কাস্টম হাউস আইসিডি। মিথ্যা ঘোষণায় আনা ২০২৩ মডেলের এসব গাড়ি খালাসে শুল্কও কম নেয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

অথচ নিয়ম অনুযায়ী, সিআইসি কোনো পণ্য আটক করার পর তাদের পরীক্ষণ ছাড়া সেই পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। বেআইনিভাবে গাড়ি খালাসের এ ঘটনায় কাস্টমসের ভেতরে এখন তোলপাড় চলছে।

জানা গেছে, অটো ইমপোর্টস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালে তৈরি কৃত মার্সিডিজ বেঞ্জের সি-২০০ মডেলের একটি গাড়ি নিয়ে আসে। সে সময়ে একই মডেলের আরেকটি গাড়ি আনে কন্টিনেন্টাল মোটরস। ই-২০০ মডেলের আরেকটি গাড়ি আনে এডিসন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কিন্তু কাগজপত্রে মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণ পাওয়ায় গাড়িগুলো আটকে দেয় সিআইসি।

Advertisement

ঐ গাড়িগুলো যুগ্ম কমিশনার ফখরুল আমিন চৌধুরীর আইডির মাধ্যমে খালাস করা হয়েছে। এরই মধ্যে শোকজ করা হলেও তিনি কিছু বলতে চাননি। 

কাস্টম হাউস আইসিডি, কমলাপুরের কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, নিয়মের একটা ব্যত্যয় হয়েছে। আমরা আমদানিকারকের কাছ থেকে বাকি রাজস্ব আদায়ের জন্য ডিমান্ড করেছি। আর যারা লক করা পণ্য খালাস করেছেন, তাদের শোকজ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গাড়িগুলো হাইব্রিড গাড়ি হিসেবে শুল্কায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ব্র্যান্ডের দুটি গাড়ি ১৪৯৬ সিসির। এই গাড়ির শুল্কায়ন হয়েছে ৮৯ শতাংশ হারে। প্রকৃতপক্ষে এসব গাড়ির শুল্কায়ন হবে ১৩০ শতাংশ হারে। আর ১৯৯১ সিসির ই২০০ গাড়ির শুল্কায়ন হবে ২১৭ শতাংশ হারে। আবার শুল্কায়নের ক্ষেত্রে গাড়ির মূল্যও কম দেখানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি ধরা পড়লে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ হারে জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে। মার্সিডিজ গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে সে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উল্টো প্রকৃত হারের তুলনায় কম শুল্ক আদায় করা হয়েছে। এর ফলে সরকার প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, কাস্টম হাউস আইসিডি থেকে সিআইসির লক করা পণ্য খালাস করে নিয়ে যাওয়া অটো ইমপোর্ট কোম্পানির মতো মিথ্যা ঘোষণায় ২০২৩ সালের তৈরি ব্র্যান্ড নিউ বিএমডব্লিউ এবং রেঞ্জ রোভার জিপ নিয়ে আসে অটো মিউজিয়াম। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক বারভিডার বর্তমান সভাপতি ও এফবিসিসিআইর সাবেক সহসভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন।

এর আগে ব্র্যান্ড নিউ বিএমডব্লিউ এক্স-৭ এক্স ড্রাইভ হাইব্রিড জিপ ও নতুন ব্র্যান্ডের রেঞ্জ রোভার জিপ মাইল হাইব্রিড হিসেবে ঘোষণা দেয় তার প্রতিষ্ঠান। যদিও ওয়ার্ল্ড কাস্টম অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাইল্ড হাইব্রিড গাড়ি সাধারণ গাড়ির মতো শুল্কায়ন হবে। কিন্তু আমদানিকারক ২৯৯৯ সিসির এ গাড়িটি খালাসে মিথ্যা ঘোষণার আশ্রয় নিয়েছে বলে মনে করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। আর মিথ্যা ঘোষণা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ার কারণে আমদানিকারকের ওপর ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার। একই সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা করা হয়। অটো মিউজিয়ামের গাড়িটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপরই সামনে আসে আইসিডি কমলাপুরের ঘটনা।

মূলত শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় গোঁজামিল দিয়ে গাড়ি খালাসের চেষ্টা করেছেন আমদানিকারকরা। ওয়ার্ল্ড কাস্টম অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) হাইব্রিড ও নন-হাইব্রিড গাড়ির ব্যাখ্যা দেওয়া থাকলেও এই আমদানিকারক কোনোটাই মানেননি। যার কারণে তার বিলাসবহুল গাড়ি দুটি আটকে দেয় কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!