এদিকে ঈদের পর থেকেই পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত হচ্ছে। গত রোববার বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সংবাদে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে সোমবারও আবার বড় পতন হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদের পর গত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ কার্যদিবসেই কমেছে সূচক।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের শেয়ার বাজারের বড় সমস্যা আস্থার সংকট। এছাড়া ব্যাংকে সুদের হার বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজার ছেড়ে ব্যাংকে টাকা রাখছেন। শেয়ার বাজারে ভালো কোম্পানির অভাব রয়েছে।
.png)
তারা বলছেন, গত এক দশকে দেশের শেয়ার বাজারে যে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হয়েছে, তার অধিকাংশই পরে লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্টরা শেয়ার বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নানা অনিয়ম রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে বাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো করতে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, মার্জিন ঋণনীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড খাত শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে দীর্ঘ মেয়াদে বাজারে সুফল মিলবে না।
এছাড়া বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, বাজারকে বাজারের নিয়মে চলতে দিতে হবে। শেয়ার বাজার ব্যবসায় ভালো করতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ শিক্ষায় জোর দিতে হবে।
এদিকে সোমবার বাজারে লেনদেনের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনকৃত মোট ৩৯৭টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮৬টির, কমেছে ২৭৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির দর।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৬৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ১২২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১৯৯৩.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৪৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
দেশের প্রধান এই শেয়ারবাজারে গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, লাভেলো আইসক্রিম, মালেক স্পিনিং, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্যালভো কেমিক্যাল, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, কহিনূর কেমিক্যালস, আইটি কনসালটেন্ট ও বিচ হ্যাচারি।
এছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেনকৃত মোট ২২১টি কোম্পানির মধ্যে ৭৪টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১২৩টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির দর। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬১ পয়েন্ট। এদিন এই বাজারে ৫৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয় ১৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা।