ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

সোনার দাম ১১ মাসে বেড়েছে ১৭ বার

অর্থনীতি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩
সোনার দাম ১১ মাসে বেড়েছে ১৭ বার
ফাইল ফটো

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের ১১ মাসে (১ জানুয়ারি-১১ ডিসেম্বর) দেশে ২৮ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর মধ্যে দাম কমেছে ১১ বার, বেড়েছে ১৭ বার। এ অবস্থায় অনেকেই স্বর্ণালংকার কেনা নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

গত জানুয়ারিতে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ৮৮ হাজার ৪১৩ টাকা। ২১ জুলাই দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো প্রতি ভরি সোনার দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত ৫ নভেম্বর ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪ হাজার ৬২৬ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি ৯৯ হাজার ৯০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি ৮৫ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭১ হাজার ৩২৫ টাকা।

গত ১৮ নভেম্বর সোনার ভরি ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর সোনার দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকায় পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

Advertisement

শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই ৪ দফা বেড়েছে সোনার দাম। ৪ অক্টোবর প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ৯৭ হাজার ৪৫ টাকা। ১১ অক্টোবর ২ হাজার ৩৩২ টাকা বেড়ে প্রতি ভরি সোনার দাম হয়েছিল ৯৯ হাজার ৩৭৭ টাকা। এরপর ১৫ অক্টোবর প্রতি ভরি সোনা ১ হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৪৩ টাকায় বিক্রি করতে বলা হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলেন, যেকোনো বৈশ্বিক সংকট সোনার দামে প্রভাব ফেলে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর সোনার দাম বেড়েছে। সোনার দামের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা মানে সোনার বাজারে সুদিন। যত বেশি মূল্যস্ফীতি, তত বেশি সোনার মূল্যবৃদ্ধি।

যখনই মানুষ ডলারের ওপর আস্থা হারায়, তখন সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ে। কাছাকাছি সময়ে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে, ইরান, ইরাক, লিবিয়া এমনকি চীন ও আমেরিকার যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ হয়েছে, তখনও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। এখন পুরো ইউরোপ সোনার দিকে ঝুঁকছে। এ কারণে সংকট এলেই সোনার দাম বাড়ে।

অপরিশোধিত তেল এবং সোনা একে অপরের সঙ্গে জড়িত। নানা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার যেমন থাকে, তেমনি সোনাও গচ্ছিত থাকে। সোনা একটি পণ্য কিন্তু মূল্য পরিশোধেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তেলের দাম বাড়লেও সোনার দাম বাড়ে। আবার উল্টোটাও হয়। মুদ্রায় অস্থিরতা থাকলে প্রায়শই অপরিশোধিত তেলের মূল্য সোনায় পরিশোধ করা হয়।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় সোনার দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অর্থাৎ ২০২০ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সেটিই ছিল এতদিন ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় আউন্সপ্রতি সোনার দাম ২ হাজার ৭২ ডলারে উঠে গেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সমীক্ষায় অনুযায়ী, বিশ্বের ২৪ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রমবর্ধমান মার্কিন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে হতাশায় রয়েছে। এ কারণে তারা আগামী এক বছরের মধ্যে সোনার রিজার্ভ বাড়াতে চায়। এর ফলে আগামী বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো আনুষ্ঠানিক খাত থেকেই সোনার জন্য উচ্চচাহিদা থাকবে।

সোনার দামের সঙ্গে চাহিদা ও জোগানের সম্পর্ক আছে। সোনার চাহিদা মূলত দুইভাবে তৈরি হয়। যেমন গয়নার চাহিদা ও সোনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। গয়না হিসেবে সোনা বেশি ব্যবহার করা হয় চীন ও ভারতে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও গয়নার ভালো চাহিদা আছে। চাহিদার মতো সরবরাহও নিশ্চিত হয় দুইভাবে- খনি থেকে নতুন উত্তোলন এবং পুরোনো সোনা বিক্রি। যদিও খনি থেকে সোনার উত্তোলন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!