শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, জোয়ার সাহারাসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাষের পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছ থেকে শুরু করে দেশি প্রজাতির সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। প্রকারভেদে মাছের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
বড় ও মাঝারি আকারের তেলাপিয়া মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২১০ টাকা। আকারভেদে পাঙ্গাশ মাছের কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। প্রতি কেজি চাষের নলা-রুই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। ৮০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, এক কেজি ওজনের ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, দুই কেজি ওজনের ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। বড় আকারের কাতল মাছ প্রতি কেজি ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পাবদা মাছ আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
.png)
ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।
জোয়ার সাহারা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন বলেন, মাছের দাম ঈদের আগে থেকেই বাড়তি, ঈদের পর নতুন করে আবার বেড়েছে। মূলত বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। সব মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আদার দাম কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে কেরালা জাতের আদা প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়, দাম কিছুটা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৬০ টাকায়। তবে রসুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। দেশি রসুন কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খোলা চিনি প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। আলু কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। অন্যান্য সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়লেও বেশি বেড়েছে টমেটো ও করলার দাম। বাজারে দেশি টমেটোর সরবরাহ নেই, আমদানি করা টমেটোর কেজি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। করলা কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, উচ্ছে (ছোট করলা) ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চীনের গাজর ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাড্ডার সবজি ব্যবসায়ী হিরণ মিয়া বলেন, এখন সবজির মৌসুম নেই। তাই বাজারে সবজির সরবরাহ কম। কারওয়ান বাজারে এখন আগের মতো সবজি আসছে না, যেগুলো আসছে সেগুলো বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারে আসা ফরহাদ হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটছে। গত তিন বছরে আয়ের তুলনায় বাজারের খরচ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। মাস শেষে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছি না।