ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
এক বছরে সাড়ে ৩ লাখ যাত্রী পারাপার

ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় ১০ কোটি টাকা

ইব্রা‌হিম খ‌লিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৮:০৪, ৬ জুলাই ২০২৩
ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় ১০ কোটি টাকা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে নয় কোটি ৮০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। যা গত অর্থবছরের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য শহর কোলকাতার সঙ্গে সাতক্ষীরার ভোমরার দূরত্ব কম হওয়ায় যাত্রীরা ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষাসহ স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে ভারত যাচ্ছেন অনেকে।

ভোমরা স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন থেকে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তিন লাখ ৬১ হাজার ৯৩৭ জন যাত্রী পারাপার করেছে। এর মধ্যে এক লাখ ৯৮ হাজার ২৭৫ জন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ভারতে এবং এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২ জন যাত্রী ভারতে থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আসে নয় কোটি ৮০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। 

Advertisement

আরো জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে ২ লাখ ৫ হাজার ৩৭৬ জন যাত্রী। একই অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ আসে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫২ জন যাত্রী। এ অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আসে ১০ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। 

পরবর্তী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ জন যাত্রী। ভারত থেকে বাংলাদেশ আসে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৯ জন যাত্রী। করোনার কারণে এ অর্থবছরের ১৩ মার্চ ভারত সরকার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সরকারের রাজস্ব কমে যায় প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে সরকার ৭ কোটি ৭৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়।

করোনার প্রভাবে গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে ভোমরা স্থলবন্দরে যাত্রী যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কোনো রাজস্ব আদায় করতে পারেনি সরকার। তবে, এ সময়ে ভারতে আটকে থাকা ৬৭৩ জন যাত্রীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

২০২১-২২ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে ৪৬ হাজার ৫০০ জন যাত্রী গমনাগমন করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে ২৪ হাজার ৩৭৯ জন যাত্রী এবং ভারত থেকে বাংলাদেশ আসে ২২ হাজার ১২১ জন যাত্রী। এ অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আসে এক কোটি ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা।

জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্রমণ কর ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ১ জুলাই শনিবার থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়াও ১২ বছরের নিচের যাত্রীদের জন্য ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৫ বছরের নিচের, অন্ধ, ক্যান্সার আক্রান্ত ও পঙ্গু যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনো ভ্রমণ করের প্রয়োজন হবে না।

ভোমরা চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজরিহা হুসাইন বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে ভোমরা পুলিশ ইমিগ্রেশনের ৬টি ডেস্কে নিয়মিত কাজ করছেন অফিসাররা। এর মধ্য ৩টি বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের যাত্রী এবং ৩টি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, ভোমরা সীমান্তে অবস্থিত ভোমরা পুলিশ ইমিগ্রেশনে একটি আধুনিক ভবনে যাত্রীদের ভারতে গমনাগমন সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করা হয়। সেখানে উপস্থিত দেশি-বিদেশি যাত্রীরা পুলিশের আন্তরিক ব্যবহারসহ দ্রুত ইমিগ্রেশন সেবার প্রশংসা করেন।

ভোমরা স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা-ভোমরা রোডের সংস্কার ও করোনার বন্ধের পর পুনরায় এই বন্দর চালু হওয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী পারাপার হচ্ছে। যার ফলে সরকারের প্রচুর রাজস্ব আদায় হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভ্রমণ কর ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১২ বছরের নিচের যাত্রীদের জন্য ৫০০ টাকা এবং ৫ বছরের নিচের, অন্ধ, ক্যান্সার আক্রান্ত ও পঙ্গু যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনো ভ্রমণ করের প্রয়োজন হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!