ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]
এনবিআর

৪ বছরে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা

অর্থনীতি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:৪২, ২২ মে ২০২৩
৪ বছরে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- ফাইল ফটো

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী চার বছরে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে চলতি বছর ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ও ২০২৬ সালে ২ লাখ ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা হবে।

মূসক খাত থেকে চলতি অর্থবছর বাদ দিয়ে আগামী তিন অর্থবছরে (২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬) প্রায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

Advertisement

চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। গত এপ্রিল পর্যন্ত অর্থবছরের ১০ মাসে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ৮৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। এই সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, সে হিসেবে ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আগামী অর্থবছর ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ভ্যাট আহরণ করা হবে বলে আইএমএফকে জানিয়েছে এনবিআর। ভ্যাট উইংয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরের মতো প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাত থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১০০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আদায় হতে পারে।

সম্প্রতি আইএমএফের সঙ্গে এনবিআরের এক বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভ্যাট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে সিগারেট উৎপাদন থেকে। এ খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়াতে আগামী বছরগুলোয় কর নীতি আরও বেশি যৌক্তিকীকরণ করার চেষ্টা থাকবে এনবিআরের। এছাড়া নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে প্রতি বছর ভ্যাটের রেজিস্ট্রেশনও বাড়ছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশে পোশাক খাত, ভারী শিল্প ও প্রযুক্তিপণ্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট, ট্যাক্স অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের দিকে গিয়ে শেষ হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, জনকল্যাণমূলক ও কয়েকটি সেক্টর ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এসব সুবিধা প্রত্যাহার করতে চায়। পর্যায়ক্রমে অনেক সেক্টর থেকে রাজস্ব সুবিধা তুলে নেয়া হবে।

তিন অর্থবছরে লক্ষ্য ১৩ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়
ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক- এ তিন খাত থেকে আগামী তিন অর্থবছরে প্রায় ১৩ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ৪ লাখ ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব, ২০২৫ সালে ৪ লাখ ৭২৯ কোটি ও ২০২৬ সালে ৫ লাখ ৬৭১ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হবে। এছাড়া চলতি বছর ৩ লাখ ৩৬৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে।

আয়কর বিভাগ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর বাড়ছে। নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে কর আদায় আরো বাড়ানো হবে। কর ফাঁকি রোধে অটোমেশন প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হয়েছে। ই-পেমেন্ট, রির্টানের ই-ফাইলিং, ই-টিন, ই-টিডিএস ও ই-অফিস ম্যানেজমেন্ট প্রবর্তন করা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব। এজন্য রাজস্ব বোর্ডের আর্থিক, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে, কর ফাকি রোধ করা সম্ভব হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!