ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির সময় গ্রেফতার ছয়
রাজধানীর তুরাগের ধওর বেরিবাঁধ এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির সময় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, ডিবি লেখা জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোস্তফা কামাল ওরফে লিটন, শাহাব উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, নাছির উদ্দিন, আলমগীর শেখ ও শফিকুল ইসলাম।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
.png)
তিনি জানান, সম্প্রতি ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তুরাগ এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় দেখা যায়, ধওর বেড়িবাঁধ এলাকায় ১টি হাইয়েস মাইক্রোবাস থেকে ডিবির জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল নেমে বিভিন্ন গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছে। র্যাব টহল দলের সন্দেহ হলে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ সময় তাদের কয়েকজন মাইক্রোবাস নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় সংঘবদ্ধ দলের ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ৪টি চাপাতি, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ২টি ডিবি লেখা জ্যাকেট, ১টি হ্যান্ডকাপ, ২টি ডিবি পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড, ১২টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এ দলের মূল হোতা মোস্তফা কামাল ওরফে লিটন ও শাহাব উদ্দিন। এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করছে।
সাম্প্রতিক এই চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমত তাদের দলের এক-দুইজন ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাইরে, দুই থেকে তিন জন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে। মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। পরে একজন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাইরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দেয় অথবা সরাসরি মোবাইলে বাইরে অবস্থানরত দলকে জানিয়ে দেয়। এ পর্যায়ে সুবিধাজনক স্থানে মাইক্রোবাসটি পেছন অথবা কখনও সামনে থেকে এসে ভিকটিমের গতিরোধ করে। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভিকটিমকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। গাড়ির ভেতরে ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।