ঢাকা,  শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্টেশন প্ল্যাটফর্মে বাতি না থাকায় ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
স্টেশন প্ল্যাটফর্মে বাতি না থাকায় ভোগান্তিতে যাত্রীরা
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম। এ গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মের অর্ধেকাংশে বেশ কিছু দিন ধরে কোন বাতি জ্বলছে না। বিদ্যুতের তার নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে এক প্রকার ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে । এ অবস্থার ফলে আলোহীন প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা এক প্রকার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নষ্ট বিদ্যুতের তার মেরামত এবং প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান যাত্রীসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী এ রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী ২৪ টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে মেইল ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি। প্রতিদিন ওইসব রেলপথে কয়েক হাজার যাত্রী আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে তারা ভ্রমণ করছে।

এ জংশন স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মে অর্ধেকের বেশি জায়গাতে গত প্রায় ২০ দিন ধরে বিদ্যুতের তার নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় সেখানে কোনো বাতি জ্বলছে না। যার ফলে সন্ধ্যা নামতেই ওই অর্ধেকাংশে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।  এ অবস্থায় যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামা, চলাচল এবং ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এদিকে অন্ধকারের সুযোগে প্রায় যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে।

একাধিক যাত্রী জানায়, ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী বেশীভাগ ট্রেন ১, ২ ও ৩ নং প্ল্যাট ফর্মে যাত্রা বিরতি দিচ্ছে। এরমধ্যে ১ নং প্ল্যাটফর্মে বেশী যাত্রা বিরতি দিয়ে আসছে ট্রেন। দিনের বেলায় যাত্রীদের কোন প্রকার সমস্যা না হলে ও সন্ধ্যার পর অনেকটাই বিপাকে পড়তে হচ্ছে ।

ট্রেন যাত্রী মো: খোরশেদ আলম বলেন, চট্রলা ট্রেনে চট্রগ্রাম যেতে স্ত্রীসহ ছেলেকে নিয়ে স্টেশনে আসি। ট্রেনটি বিলম্বে চলাচল করায় প্ল্যাটফর্মে টেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সন্ধ্যায়  স্টেশনে প্ল্যাট ফর্মে বাতি জ¦ললে ও  ১ নং প্ল্যাট ফর্মের অর্ধেকাংশে বাতি না থাকায় অন্ধকার হয়ে আছে। আমাদের সিট যেহেতু মাঝামাঝিতে তাই কষ্ট করে মালামাল নিয়ে অন্ধকারেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ট্রেনে উঠার সময় পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।

ট্রেনযাত্রী কাশেম মিয়া বলেন, সন্ধ্যার মহানগর ট্রেনে ঢাকায় যেতে স্টেশনে আসা হয়। মাইকিং করে বলা হয় ১ নং প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসবে। এই প্ল্যাটফর্মে অর্ধেকাংশে বৈদ্যুতিক বাতি না থাকায় অনেকটাই আতঙ্ক হয়ে যায়।

স্কুলশিক্ষক আফসানা মিম বলেন, উপকুল ট্রেনে কুমিল্লা যেতে বিকালে স্টেশনে আসা হয়। গরমের কারনে ১ নং প্ল্যাটফর্মের প্রায় শেষ ভাগে যাওয়া হয়। সন্ধ্যার পর দেখি কোন বাতি জ¦লছে না। অর্ধেকাংশ অন্ধকার হয়ে আছে। এক প্রকার ভয়ে সেখান থেকে আলোতে চলে যায়।

আরমান মিয়া বলেন, এ স্টেশনে দিনের বেলায় কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু সন্ধ্যার পর যেসব ট্রেন ১ নং প্ল্যাট ফর্মে যাত্রা বিরতি দিচ্ছে তখন সমস্যা তৈরী হয়। গত প্রায় ২০ দিনের উপর ধরে স্টেশনে একাংশে বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যা থাকায় বাতি না থাকায় অন্ধকার হয়ে আছে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মালামাল নিয়ে কষ্ট করে অন্য জায়গাতে যাওয়া হয়।

আলম মিয়া বলেন, চট্রলা ট্রেন দিয়ে কুমিল্লা যেতে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনের গেইট দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করি। এটি নিরিবিলি হওয়ায় প্ল্যাটফর্মে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু অন্ধকারের সুযোগে আমার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ কৌশলে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজে সেটি পাওয়া যায়নি।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট নুরুন্নবী বলেন, ১ নং প্ল্যাটফর্মের একাংশে বেশ কয়েক দিন ধরে বৈদ্যুতিক তারের সমস্যা হওয়ায় বাতি জ¦লা সাময়িক বন্ধ রয়েছে।  বিষয়টি মেরামতে রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, এটি দ্রুত  সামাধান হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!