পদ্মায় অবৈধ বালি উত্তোলন, রাস্তায় কৃষকরা
পাবনার ঈশ্বরদীতে চরাঞ্চল, ফসলি জমি ও পদ্মার ভাঙনরোধে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধ রক্ষার দাবিতে অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকার ফটু মার্কেটে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা পদ্মা নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নামমাত্র অভিযান ও লোকদেখানো তৎপরতায় কোনো প্রতিকার মিলছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘নদীপথের রাজা’ নামে পরিচিত কাকন বাহিনীর লোকজন দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত এলাকার বাইরে কয়েকটি পয়েন্ট থেকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে। সম্প্রতি সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা, রূপপুর ফটু মার্কেট ও লক্ষ্মীকুণ্ডা এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে রূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় গিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায়। নদীর মাঝখানে কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করতে দেখা গেছে। এ সময় পরিচয় গোপন রেখে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের কাছে বালি উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যান।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষক ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফসলি জমি ও তাঁদের আবাদ করা চরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছেন। অন্যদিকে, বালি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক ভেঙে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেন, এ বিষয়ে দুই দিন আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। মাঝেমধ্যে রাতে অভিযান চালিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ করা হলেও প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবারও একই কার্যক্রম শুরু হয়। এতে একদিকে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে সড়ক। সব মিলিয়ে তাঁরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, গতকাল রাতেও অভিযান চালিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বালি উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। আমরা চলে আসার পর তারা আবার শুরু করে। আমাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। শুধু আমরা নয়, এসব বালিখেকোর দৌরাত্ম্য বন্ধে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।