স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী, ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
সংসার মানে শুধু সুখের দিনে পাশাপাশি থাকা নয়, দুঃসময়ের ঝড়েও একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে রাখা। সেই ভালোবাসা ও আত্মত্যাগেরই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হালিমা বেগম। স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি কিডনি দান করেছেন তিনি। তার এই অসামান্য ত্যাগের কথা এখন এলাকাবাসী, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মুখে মুখে।
কিডনি গ্রহীতা কবির মীর উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাথানবাড়ি গ্রামের দেলোয়ার মীরের বড় ছেলে। দুই অবুঝ সন্তানের জনক কবিরের জীবনে হঠাৎ নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। গত জুন মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা না গেলে তার জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।
চিকিৎসকদের এমন খবরে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। একদিকে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয়, অন্যদিকে দুটি শিশুর ভবিষ্যৎ- সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে কবিরের পরিবার। শুরু হয় কিডনিদাতার সন্ধান। নানা চেষ্টা করেও যখন কোনো দাতার সন্ধান মিলছিল না, তখন পরিবারটির সামনে যেন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছিল আশার পথ।
এমন কঠিন মুহূর্তে স্বামীর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান স্ত্রী হালিমা বেগম। প্রিয় মানুষটির জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের শারীরিক ঝুঁকি ও অস্ত্রোপচারের নানা শঙ্কা উপেক্ষা করে স্বামীকে নতুন জীবন দেওয়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসেন এই নারী। তার এই সিদ্ধান্তে যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পুরো পরিবার।
কবির মীরের ছোট ভাই রিয়াজ মীর জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন কবির। অবশেষে সোমবার রাতে বিশিষ্ট কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার করা হয়। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হালিমা বেগমের শরীর থেকে একটি কিডনি নিয়ে কবির মীরের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কবির মীর ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম দুজনেই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।