ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ভৈরব থানায় ওসিকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়, আলোচনায় ৬ সদস্যের সিন্ডিকেট

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৩, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ভৈরব থানায় ওসিকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়, আলোচনায় ৬ সদস্যের সিন্ডিকেট
ভৈরব থানার ওসি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘুষ লেনদেন, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অনিয়ম ও আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। ঘুষ গ্রহণ, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা এফআইআরভুক্ত করা, ভুক্তভোগীদের মামলা গ্রহণ না করা, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অনিয়ম এবং মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি থানার ভেতরে ছয় সদস্যের একটি কথিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে কমলপুর এলাকায় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা নথিভুক্ত করা এবং ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরবিহীন রিকলের ভিত্তিতে একজনকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায়। বিকাশ লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর সবকটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইন্সপেক্টর মো. মাহবুবুর রহমান (বিপি: ৭৯০৬১১৮৫৮৯) গত ২৮ জুলাই ভৈরব থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানায় প্রায় চার মাস এবং নিকলী থানায় প্রায় তিন মাস ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কটিয়াদী থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে তাঁকে নিকলী থানায় বদলি করা হয়। নিকলী থেকে ভৈরবে আসার পর তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা, থানার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব থানায় যোগদানের পর ওসি মাহবুবুর রহমান কয়েকজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে অন্যত্র বদলি করিয়ে দেন। এতে থানার অন্য সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও আতঙ্ক তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের বিশ্বস্ত কয়েকজনকে নিয়ে থানায় একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে ছয় সদস্যের এই কথিত বলয়ে ওসি মাহবুবুর রহমান, কনস্টেবল মুন্সি আনিস, এসআই শক্তিপদ মৃধা, এসআই আসিবুর, কম্পিউটার অপারেটর কনস্টেবল মোকাররম এবং ওসির দেহরক্ষী কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, থানার অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিভিন্ন কার্যক্রমে এসআই শক্তিপদ মৃধাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সহযোগিতা করেন এসআই আসিবুর। কনস্টেবল মুন্সি আনিস ও কনস্টেবল মোকাররমকে ওসির আস্থাভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনকে অন্য থানা থেকে ভৈরবে পদায়নের ক্ষেত্রেও ওসির ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসির দেহরক্ষী কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হতো। ভৈরবের ২৪ জন কথিত মাদক কারবারির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের একটি তালিকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সংগ্রহ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাটির সত্যতা, অর্থের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও প্রয়োজন।

ওসি যোগদানের পর ভৈরব শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেড় শতাধিক তরুণ ও মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেককে যাচাই-বাছাইয়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি, মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ফলে মাদক কারবার অব্যাহত থাকার পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা। তবে অপরাধ বৃদ্ধির প্রকৃত চিত্র এবং পুলিশের অভিযানের কার্যকারিতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান যাচাই করা প্রয়োজন।

গত ৭ অক্টোবর বুধবার ভোর ৬টার দিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত মতিউর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে গাছতলাঘাট সেতু পার হওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ছিনতাইকারীরা তাঁদের বিভাটেক থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় মোবাইল হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগীর মামাতো ভাই বায়োজিদ মিয়া। ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত মামলা না নিয়ে জিডি গ্রহণ করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ওসি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য, ভৈরবে মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি হওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার মামলা হয়। এ কারণে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিডি নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

মিরারচর ও আকবরনগর গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আকবরনগর গ্রামের ছাবু মিয়ার ছেলে আব্দুল আলীমকে আসামির তালিকায় রেখেই গত সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটি এফআইআরভুক্ত করা হয়। মামলার নম্বর ২১ এবং আসামির তালিকায় তাঁর অবস্থান ১৬ নম্বরে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলার ঘটনার প্রায় দুই বছর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল আলীমের মৃত্যু হয়েছিল। যদি মৃত্যুর তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর নাম কীভাবে মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তা তদন্তের বিষয়। এ জন্য মামলার এজাহার, মৃত্যুসনদ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

গত ৩ অক্টোবর শনিবার ভৈরব শহরের কমলপুর এলাকায় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার কাছ থেকে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনটি ওই দিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে হয়। ট্রানজেকশন আইডি হিসেবে DJ32CPB40Q উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ঘটনায় ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ এক সপ্তাহ ধরে থানায় যোগাযোগ করেও মামলা করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন। ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক যুগান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগের পর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ওসিকে প্রত্যাহারের একটি আদেশ ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় থেকে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে। পরে ক্ষমতাসীন দলের এক ছাত্রনেতার তদবিরে আদেশটি স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আদেশ জারি, স্থগিত এবং কথিত তদবিরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া না গেলে এসব তথ্য নিশ্চিত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিকাশ লেনদেনের অভিযোগের তদন্তের ফলাফলও এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে, গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভৈরবের একটি চানাচুর কারখানা থেকে মুন্না নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি কারখানার মালিক রহমান মিয়ার ছেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসআই শক্তিপদ মৃধা ও এসআই হাসান তাঁকে কারখানা থেকে থানায় নিয়ে যান। দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে তাঁকে হাজতে রাখা হয় এবং দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে ওসির নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে আটকের কারণ, মুক্তির আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গত ৫ অক্টোবর বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ আরিয়ান খুলুদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসআই শক্তিপদ মৃধা তাঁকে থানায় নিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন রাত ১২টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরবিহীন একটি রিকলের ভিত্তিতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, রাতে তাঁর লোকের মাধ্যমে নথিপত্র সঠিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরদিন অফিস খোলার পর সংশ্লিষ্ট এসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে রিকলটি বৈধ ছিল কি না এবং আসামিকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ প্রদানেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি ছুটিতে বগুড়ায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়ন মিয়া নামে পর্তুগালগামী এক ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে তিনি স্বাক্ষর করেন। সংশ্লিষ্ট ক্লিয়ারেন্সের রেফারেন্স নম্বর RF: 1BUBW2H বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসআই শক্তিপদ মৃধার মাধ্যমে বগুড়ায় ওই ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর করানো হয়।

ওসি মাহবুবুর রহমান ছুটিতে থাকা অবস্থায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কীভাবে স্বাক্ষরটি করা হয়েছিল এবং প্রক্রিয়াটি বিধিসম্মত ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া, ভৈরব শহরের কমলপুর নিউটাউন এলাকার মাহিয়া কম্পিউটার, সিটি কম্পিউটারসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানের মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি ফি ১ হাজার ৫০০ টাকার বাইরে আরও ২ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে জমা দিতে হয়। প্রতিটি ক্লিয়ারেন্সের জন্য ওসিকে ৭০০ টাকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভৈরব থানায় মাসে গড়ে তিন শতাধিক ক্লিয়ারেন্সের আবেদন হয় বলে দাবি করে অভিযোগকারীরা এ খাত থেকে অনিয়মিতভাবে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অর্থ লেনদেনের পক্ষে যাচাই করা হিসাব বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ওসি মাহবুবুর রহমান ও কনস্টেবল মুন্সি আনিসের বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রায়ই রাতে আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন মিন্টুর মালিকানাধীন জান্নাত রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের চতুর্থ তলায় তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে মদ্যপান করতেন। গত ২২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভৈরবের গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ওসির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো পরীক্ষার ফল বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা প্রতিবেদন মুছে ফেলতে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের ফোন করে চাপ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া, ওসির প্রত্যাহার আদেশ স্থগিত হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আর সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিভিন্ন কাজে ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে সব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা ঠিক নয়। মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়, থানায় ছয় সদস্যের সিন্ডিকেট গঠন, মদ্যপান এবং প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

কটিয়াদী থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝির ফল। ওই অভিযোগের সঙ্গে কটিয়াদী-২ আসনের সংসদ সদস্যের সুপারিশযুক্ত একটি অভিযোগপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে, কনস্টেবল মুন্সি আনিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঘুষ গ্রহণ, মামলা গ্রহণে অনিয়ম, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থানও চান তাঁরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভৈরব/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!