ঢাকের তালে, শঙ্খের সুরে তজুমদ্দিনে দুর্গোৎসবের আমেজ
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর তজুমদ্দিনের পূজামণ্ডপগুলো। প্রতিমার বর্ণিল সাজ, আলোকসজ্জা আর ভক্তদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার ১৫টি পূজামণ্ডপে শুরু হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্যমতে, এ বছর তজুমদ্দিনে ১২টি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও দেবীর বোধনের আনুষ্ঠানিকতা চলে। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানান ভক্তরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড় আর মণ্ডপের আলোকসজ্জায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। নতুন পোশাকে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন পূজামণ্ডপে। উপজেলা কেন্দ্রীয় কালীমন্দির, শশীগঞ্জ বাজার সার্বজনীন কালীমন্দির, উপজেলা সদর দুর্গামন্দির ও গৌড় গোবিন্দ মহাপ্রভুর আশ্রমসহ বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অরবিন্দু দে টিটু বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় গত বছরের তুলনায় এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব শেষ হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এ উৎসব সম্প্রীতির বন্ধনে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমী পর্যন্ত উৎসবের আমেজ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা সদর দুর্গামন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহদেব দাস শুভ বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। সবার সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন তারা।