উপকূলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নারী ও যুবদের সম্পৃক্ততা জরুরি
উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে নারী ও যুবদের কার্যকর অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল জীবিকার প্রসার এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও যুব নেতৃত্বের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বরগুনার পাথরঘাটায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খ্রিষ্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) পরিচালিত ‘রূপান্তরমূলক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে নারীর ক্ষমতায়ন ও জ্ঞান বৃদ্ধি’ (শক্তি) প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় এসব কথা বলা হয়।
পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম, সমাজসেবক এরফান আহমেদ সোয়েন এবং উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন।
সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে অংশীজনদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকেরা জানান, নারীর ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সমাজে নারী ও যুবদের কার্যকর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল ও বহুমুখী জীবিকার সুযোগ তৈরি, উপকারভোগীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে নারী ও যুব নেতৃত্বের বিকাশেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়িয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে উপকারভোগীরা আরও উৎসাহিত হবেন। তবে এসব উদ্যোগের সুফল টেকসই করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক জেলে নিখোঁজ হন। তাদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটান। এসব পরিবারের সদস্যদের স্মার্ট কৃষি ও জলবায়ু সহনশীল বিকল্প জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি এবং নারী ও যুবদের দক্ষতা বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।