ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
প্রথম স্ত্রীকে বঞ্চিত করার চেষ্টা, তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশনের অর্থ বণ্টন নিয়ে বিরোধ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫১, ১০ অক্টোবর ২০২৬
মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশনের অর্থ বণ্টন নিয়ে বিরোধ
কয়রা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনার কয়রা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসার প্রয়াত সাবেক উপাধ্যক্ষ আব্দুল হাই শেখের পেনশনের অর্থ বণ্টন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পেনশনের অর্থ থেকে প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুনকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর প্রথম পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগের অনুলিপি কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই গভীর রাতে দ্বিতীয় পরিবারের বাড়িতে নিহত হন মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ আব্দুল হাই শেখ। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানারা সুলতানা বেবি ও ছেলে মাসুদ বিল্লাহকে আসামি করে মামলা করেন। পরে একই বছরের ৩১ আগস্ট হলফনামার মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহার করেন বাদী। বর্তমানে আব্দুস সাত্তার মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রয়াত উপাধ্যক্ষের প্রথম পরিবারের ছেলে মুস্তাকিম বিল্লাহর অভিযোগ, তাঁর চাচা আব্দুস সাত্তার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতির পদে থেকে পেনশনের অর্থ দ্বিতীয় পরিবারকে পাইয়ে দিতে কমিটির সভাপতির কাছে সুপারিশ করছেন। এর ফলে তাঁর মা সাজেদা খাতুন পেনশনের অর্থের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, তাঁর বাবা নিহত হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর, ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম ওয়ারিশ কায়েম সনদ দেন। ওই সনদে প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুন, দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানারা সুলতানা বেবি, পাঁচ ছেলে মুস্তাকিম বিল্লাহ, মঈন বিল্লাহ, ওবায়দুল্লাহ, মাসুম বিল্লাহ ও মাসুদ বিল্লাহ এবং মেয়ে শাহরিয়া খাতুনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুনকে তালাক দেওয়ার কথা বলে তাঁকে পেনশনের অর্থের অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তালাকের বিষয়টি এবং পেনশনের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর আইনগত প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপাধ্যক্ষ আব্দুল হাই শেখ হত্যা মামলাটি খুলনার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন। মামলাটির নম্বর জিআর ১৬৫/১৭।

পেনশনের অর্থ বণ্টনে কোনো পক্ষ যেন বঞ্চিত না হয়, সে জন্য প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুস্তাকিম বিল্লাহ। এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা/এমকে
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!