ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে মন্দিরে চলছে দেবী বন্দনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে মন্দিরে চলছে দেবী বন্দনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে পবিত্র মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে দেবি পক্ষের শুভ সূচনা হয়েছে। শনিবার ভোরের আলো ফুটে উঠার সাথে সাথেই মহালয়ার তিথির মাহেন্দ্রক্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শিব বাড়ীতে পুস্পাঞ্জলী সংসদ পূজা মন্ডপ ও মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে পবিত্র চন্ডীপাঠ ও দেবীদূর্গার আগমনীর সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যধামে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানে সনাতনী শিল্প গোষ্ঠির শিল্পীদের পরিবেশনায় দূর্গা দেবীর আগমনীর সঙ্গীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো পূজামন্ডপ এলাকা। অনুষ্ঠানের শিল্পীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ভক্তরা লাল-সাদা রঙ্গের বর্ণিল শাড়ী ও পাঞ্জাবি পরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন।

মন্ত্রপাঠ চলাকালে শঙ্ক ও উলুধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। অনুষ্ঠানে শ্রুতি মুধুর চন্ডী পাঠের পাশাপাশি আগমনী সঙ্গীতে পুলকিত হয়ে উঠেন তারা। ভক্তরা জানান এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন। পাঁচ দিন ভক্তদের মাঝে থেকে আবারো বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে স্বামী গৃহে কৈলাশ চলে যাবেন। 

মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে উপস্থিত অন্বেষা পাল জানান, এই মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবী পক্ষের শুভ সূচনা হয়। মর্ত্যধামে দেবী দূর্গার আগমন ঘটেছে। মায়ের আগমনী বার্তায় আমরা বেশ পুলকিত।

মা যেন আমাদেরকে সকলকে ভাল রাখেন। দেশবাসীকে ভাল রাখেন, শান্তিতে রাখেন এই প্রার্থনা করছি। 

পুৃষ্পাঞ্জলী সংসদের অনুষ্ঠানের আয়োজক নয়ন কর জানান, মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে এই মর্ত্যধামে মায়ের আগমন ঘটেছে। আজকে আমরা চন্ডীপাঠ, আগমনী গানের মাধ্যমে মাকে বরণ করেছি। আজকে আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করব মা যেন সবাইকে ভাল রাখেন। সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারি। 

প্রান্ত সূত্রধর নামে আরেক ভক্ত জানান, আজকে মহালয়ার মধ্য দিয়ে মায়ের যে আগমনী বার্তা তাতে যেন সারা বিশ্বে শান্তি বিরাজমান করে, আমাদের মাতৃভূমি যেন শান্তিতে থাকে। সকল অশুভ শক্তি যেন বিনাশ হয়, সে কামনা করি। 

শিববাড়ী মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী জানান, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। এর মাধ্যমে দুর্গাপূজোর উৎসবের সূচনা হয়। দেবীদুর্গা এই দিন পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই তিথি দেবী দুর্গার জন্ম এবং অসুর রাজা মহিষাসুরের উপর তাঁর চূড়ান্ত বিজয়ের বর্ণনা দেয়। পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে 'জলদান' বা তর্পণ করা হয় এবং পরলোকগত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই অসহায় মানুষদের দান করলে পূর্ণ লাভ হয় । 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মহালয়া তিথি উপলক্ষে পূজার্চনার আয়োজন করা হয়েছে। 

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/বি.বাড়িয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!