মান্দায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া, অপসারণের নির্দেশ
নওগাঁর মান্দায় সড়ক নির্মাণকাজে স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ডাব্লিউবিএম (WBM) ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরে সড়কে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলে তা তুলে ফেলার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা সড়কে ব্যবহৃত নিম্নমানের ইটের খোয়া তুলে ফেলছেন। এলজিইডির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এ কাজ করছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অভিযোগের ভিত্তিতে সড়কটি পরিদর্শন ও তদন্ত করেন এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। তদন্তে নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর সড়কে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া অপসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় মান্দা উপজেলার বাদলঘাটা এলাকায় ১ হাজার ৭৩০ মিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৯২৭ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ওয়াসিম।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারে সড়কের ডাব্লিউবিএম কাজে স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সড়কটি সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা খোয়া অপসারণের কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। সম্পূর্ণ নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হবে।