দুই বছর পর পায়রা বন্দরের টার্মিনালে চীনা জাহাজ, এলো আধুনিক ক্রেন
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি নিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনালে সরাসরি ভিড়েছে চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘ফান ঝৌ-৬’। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্দরের কেনা পাঁচটি আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট নিয়ে জাহাজটি টার্মিনালে নোঙর করে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আনা যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি কুয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৮০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন। বন্দরের প্রথম টার্মিনালে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও আধুনিক করতেই এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।
১৬৮ মিটার দীর্ঘ ও ৬ মিটার গভীরতার ‘ফান ঝৌ-৬’ গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এমভি ডা হং-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল সরাসরি বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।
বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, পায়রা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা সংকট দূর করতে ড্রেজিং কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরকে ডিজিটালাইজড পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার কাজও চলছে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘পায়রা বন্দরের জন্য আজ একটি শুভদিন। কারণ দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর সরাসরি বন্দরের জেটিতে জাহাজ ভিড়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, আমরা ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, নতুন ক্রেনগুলো যুক্ত হওয়ায় ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থ পুরোপুরি সক্ষমতা পেয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ি আমদানির জন্য নিরাপদ বার্থিং ও ব্যবস্থাপনার উপযোগী করে ১৪৮ মিটারের কার ডেডিকেটেড রোরো জেটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
বন্দর চেয়ারম্যান আরও জানান, গাড়ি রাখার জন্য ৭৭ হাজার বর্গমিটারের পার্কিং ইয়ার্ড ও ৩ হাজার বর্গমিটারের কার শেডও প্রস্তুত করা হয়েছে। শেডটিতে একসঙ্গে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গাড়ি রাখা যাবে।
এ ছাড়া পায়রা বন্দরকে গ্রিন পোর্ট ও ডিজিটালাইজড পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।