বোরহানউদ্দিনে যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ
ভোলার বোরহানউদ্দিনে গভীর রাতে এক যুবককে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর দুই চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে ভোলা পৌরশহরের একটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইমাম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম মো. রাজিব উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফারুক খানের ছেলে। গুরুতর আহত রাজিব বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজিবের ভাই মো. রিয়াজের অভিযোগ, সোমবার রাত ১১টার দিকে বাড়ির দরজার সামনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন রাজিব। এ সময় একটি মাইক্রোবাস সেখানে এসে থামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।
রিয়াজের দাবি, পরে মাইক্রোবাসটি বদরপুর ও লালমোহন হয়ে বিভিন্ন স্থানে যায়। এ সময় রাজিবকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার দুই চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট করে ভোলা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কাছে একটি ডোবার পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।
তিনি জানান, রাজিবের চিৎকার শুনে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজিবকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
রিয়াজ আরও জানান, রাজিবের শরীর ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন তাদের এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেন তিনি। রাজিব কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন এবং তাদের নামও বলেছেন বলে জানান রিয়াজ। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী বলেন, মধ্যরাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।