মাশকলাইয়ে স্বপ্ন বুনছে সিরাজগঞ্জের যমুনা চরের কৃষকেরা
যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা এখন মাশকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে । গতবছর মাষকলাই চাষে লাভের মুখ দেখায় এবছর এই ফসল চাষে অধিক আগ্রহ দেখা গেছে কৃষকদের মাঝে।
প্রতিবছরই যমুনাভাঙন জনপদের কাজিপুর উপজেলায় হাজার হাজার আবাদি জমির ফসল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকরা হয়ে পড়েন দিশেহারা। এ অবস্থার উত্তোরণে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে নানান ধরনের সবজি চাষে নামে কৃষকরা। তবে গত দুই বছর মাশকলাইয়ে স্বপ্ন বুনছে কৃষকরা।
.png)
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের পরামর্শে নদীপাড়ের উর্বর পলিতে আদিকালের পদ্ধতি পরিহার করে এখন আধুনিক পদ্ধতিতে মাশকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা । তাই যমুনার পূর্বপারে দিগন্তজোড়া চর মাষকলাইয়ে ছেয়ে গেছে। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবছর জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে এ মাসকালাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই কৃষকেরা প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ কালাই চাষ করেছে।
আরও জানা গেছে, বন্যা পরবর্তী সময়ে মাশকলাই চাষ হয় । সেই সুবাদে চরাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নে এই ফসল বেশি ফলে। বন্যার পানি নেমে যাবার সাথে সাথে জুলাই আগস্ট মাসে মাশকলাইয়ের বীজ রোপন করা হয়।
মনসুরনগর ইউনিয়নের চাষি সবুর মিয়া জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে মাশকলাই চাষ করেছি। এই চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ হয় বেশি। সার ও পানির খরচও কম।
ছরগিরিশের চাষি হান্নান বলেন, নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি আরও ১ বিঘা বর্গা নিয়ে মাশকলাই লাগিয়েছি। কৃষি বিভাগের লোকেরা আমাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
তেকানীর চাষি জামাল উদ্দিন বলেন, মাশকলাই আবাদ করার পর ধানের আবাদ করলে ফলন ভালো হয়। আর বন্যার পর তো জামি পতিতই থাকে। সেখানে কলাই চাষ করে বাড়তি আয়ও হচেছ। প্রতি বিঘায় ৫-৭ মন পর্যন্ত মাশকলাই পাওয়া যায়।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, কৃষকরা যেন অধিক লাভবান হতে পারেন সে জন্য কৃষি অফিস সব সময় পাশে আছে। মাশকলাই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ভালো ফলন পেতে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা বলেন, এবার কাজিপুর, চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদর সহ সমগ্র জেলায় মাষকলাইয়ের উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাসকালাই আবাদ করা হয়েছে। সরকারিভাবে কৃষককে প্রনোদনা প্রদান করা হয়েছে। অতি বৃষ্টি আর বন্যাজনিত কারণে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যহত হয়েছে।