ঢাকা,  শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিরাজগঞ্জে ভ্যাপসা গরম আর লোডশেডিংয়ে গরিবের ভরসা তালপাখা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৩৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জে ভ্যাপসা গরম আর লোডশেডিংয়ে গরিবের ভরসা তালপাখা
সিরাজগঞ্জে কদর বেড়েছে তালের পাখার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

`তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, কিছু সময় আরো তুমি থাকো আমার পাশে'...এক সময়ের এই জনপ্রিয় গানের মতো ছিল বিদ্যুৎবিহীন বাংলার গ্রামীণ জীবনে চিত্র। তখন গরমে হাতপাখাই ছিল ভরসা। গরম বেড়ে গেলে এর কদরও বেড়ে যেতো, কিন্তু এখন দিন পাল্টে গেছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুত চলে এসেছে। হাত পাখার জায়গা দখল করেছে বৈদ্যুতিক পাখা। তবে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে ভ্যাপসা গরমে খেটে খাওয়া মানুষদের হাঁসফাঁস, প্রাণিকুলেও ত্রাহিত্রাহি অবস্থা। প্রচন্ড গরম ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে সিরাজগঞ্জের নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে। এতে কদর বেড়েছে হাতপাখার।

এই গরম একটু স্বস্তির আশায় ডাব, বাঙ্গি, ঠান্ডা শরবত বা পানি দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণের চেষ্টা করছে মানুষ। আর এই সুযোগে এই সব রসালো ফলে দামও বেড়েছে । কয়েক দিন আগেও ১ গ্লাস আখের রসের দাম ছিলো ১০ টাকা এখন তা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

Advertisement

শহরের ব্যস্ততম বাহিরগোলা বাজার, বউ বাজার, বাজার স্টেশন, কালিবাড়ি বাজার, বড় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাতপাখা কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় ।  আগে যে হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৪৫/৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, আগের দিনে গরম থেকে স্বস্তি পেতে হাতপাখা ছিল সবার ভরসা। 

বর্তমানে প্রতিটি বাসা-বাড়িতে রয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা। কেউ কেউ ব্যবহার করছেন এসি। প্রচন্ড গরমে লোডশেডিং বেড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকেই ফেরি করে হাতপাখা বিক্রি করছেন। আর গরমের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য গ্রাম এলাকার মানুষেরা একটু স্বস্তি পাওয়ার জন্য নামছে ডোবা, নালা, পাগাড়ের পানিতে।

শহরে হাতপাখা ব্যবসায়ী বাবলা সাহা বলেন, ১০-১২ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ শহরে হাতপাখা বিক্রি করি। সেই টাকায় আমার চলে সংসার। আমার মতো অনেকেই পাখা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। এবছর গরম শুরুর প্রথম থেকেই বেড়েছে হাতপাখা কারিগরদের ব্যস্ততা। তিনি আরো বলেন প্রতি পিস ৪৫/৫০ টাকা করে বিক্রী করেন। 

পাখা ক্রেতা হাফিজ উদ্দিন (৬২) বলেন, হাতপাখা সবসময় পাওয়া যায় না, তাই একটা কিনলাম। দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ থাকেনা সে সময় পাখা না হলে চলে না। বিদ্যুতের যে অবস্থা তাতে এখন গরমে পাখাই ভরসা।

শহরের বাসিন্দা শাহীন আলম ও কহিনুর বেগম বলেন, দুটি তাল পাতার পাখা কিনলাম ১০০ টাকায়। এ গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট তো লেগেই আছে। তাই পাখার কোনো বিকল্প নেই। পাখার বাতাসও অনেক প্রশান্তি দেয়। 

তাড়াশ আবহাওয়া অফিস কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপদাহ চলবে। এ তাপদাহ অব্যাহত থাকবে কিছুদিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/জেডআই
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!