সাইকেলের চাকা পায়ে লাগা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাইকেলের চাকা পায়ে লাগাকে কেন্দ্র করে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধমক দেওয়ার জেরে রেহানা বেগম লিলি (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দম্পতির বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রেহানা বেগম লিলি জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার হাজী ধন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী সুরত আলী মিয়া মারা গেছেন। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া একই এলাকার আনু মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মসলার মিলে চাকরি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রেহানা বেগম নিজ ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আলিফ উঠানে সাইকেল চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে সাইকেলের চাকা রেহানা বেগমের পায়ে একাধিকবার লাগলে তিনি শিশুটিকে ধমক দেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী রিমা বেগমের সঙ্গে রেহানা বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী রিমা বেগম বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।
স্বজনদের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে রেহানা বেগম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় মেয়ে সৌরভী বলেন, আমার মা ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে সাইকেল চালানোর সময় চাকা আমার মায়ের পায়ে লাগায়। এ কারণে মা তাকে ধমক দিয়েছিলেন। এই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আমাদের ঘরে ঢুকে আমার বৃদ্ধ মাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।