গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল গ্রামের মোল্লাপাড়ায় আবু তাহের মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত সাবিনা ইয়াসমিনকে দ্রুত রাতেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
.png)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীকোল গ্রামের কেরু প্রামাণিকের ছেলে অভিযুক্ত নান্নু প্রামাণিক এলাকায় একজন মাদকাসক্ত, মাদক বিক্রেতা ও মাস্তান হিসেবে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক। কিছুদিন আগে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোল গ্রামের মো. আজাদের স্ত্রী মোছা. নোমেছার কাছ থেকে টাকা ধার নেয় নান্নু। নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন যুবক শ্রীকোল গ্রামে গিয়ে নান্নুকে টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেয়।
নান্নু প্রামাণিকের বাড়ি সিরাজুল ইসলাম দুদু মোল্লার বাড়ির পাশে হওয়ায় দুদু মোল্লা সেখানে যান। তিনি পাওনাদার লোকদের রাতের পরিবর্তে দিনের বেলা আসার পরামর্শ দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। দুদু মোল্লার কথায় নোমেছার লোকজন তখন ফিরে যায়।
কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নান্নু প্রামাণিক এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ মুক্তার, সাদ্দাম, বায়েজিদ প্রাং, শাকিব ও নাজমুল মণ্ডল সন্দেহ করে যে, দুদু মোল্লাই ওই ব্যক্তিদের সেখানে ডেকে নিয়ে এসেছেন। এই সন্দেহের জের ধরে রাত ১১টার দিকে নান্নু প্রামাণিক ও তার বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবু তাহের মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলাম দুদু মোল্লার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
তারা দুদু মোল্লাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। স্বামীর ওপর হামলা হতে দেখে তাকে বাঁচাতে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন হাত দিয়ে কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাবিনা ইয়াসমিনের ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও দুই থেকে তিনজন হামলাকারীদের আঘাতে আহত হন। এরপর সন্ত্রাসীরা আঙুলগুলো নিয়ে উল্লাস করতে করতে করতে চলে যায়। এ সময় গ্রামবাসী জড়ো হলে হামলাকারীরাদ্রুত পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে হত্যা করতেই এসেছিল। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। ভাগ্যের জোরে নিজে বেঁচে গেলেও তার তিনটি আঙুল হারাতে হয়েছে। তিনি এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান (ওসি) জানান, শ্রীকোল গ্রামের ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।