ঢাকা,  বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের দাফন সম্পন্ন

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:১৭, ৪ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের দাফন সম্পন্ন
ছবি: সংগৃহীত।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ। 

আজ সোমবার (৪ মে) মাগরিব নামাজের পর উপজেলার কড়ুইচূড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন নিহত লিমনের ফুফাতো ভাই হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান। জানাজায় অংশ নিতে তার বাড়ির পাশে স্থানীয় লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে শুরু করে হাজারো মানুষ।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান ছাড়াও পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলেন লিমনের বাবা জহুরুল হক ও তার ছোট ভাই জুবায়ের হোসেন। তারা লিমনের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। এ সময় এলাকার মেধাবী সন্তানের মৃত্যুতে সবাই শোকাতুর হয়ে পড়ে। পরে নিজবাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে লিমনের মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে জামিল আহমেদ লিমনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই গ্রামের বাড়িতে তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মরদেহ বাংলাদেশে আসার প্রতীক্ষায় ছিল। আজ সোমবার সকালে লিমনের মরদেহ দেশে আসার পর গ্রামের বাড়ি পথে রওনা দেন তার বাবা জহুরুল হক, মা লুৎফুন হক, লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের হোসেন ও স্বজনরা। বিকেলে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। লিমনকে শেষ বারের মতো বিদায় জানাতে তার গ্রামের বাড়িতে ভিড় করে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

জামিল আহমেদ লিমনের বাবা জহুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে আমি কখনো কষ্ট দেইনি। আমার একটাই কষ্ট, একটাই জানার ইচ্ছা—আমার ছেলেকে এত কষ্ট দিয়ে কে মারল। আমি আমার ছেলেকে কোনো দিন একটা চড়-থাপ্পড়ও দেইনি, কোনো কষ্ট দেইনি, শুধু মুখে শাসন করেছি। আমার ছেলে আমাকে নিশ্চিন্ত হয়ে থাকতে বলতো। আমার ছেলে আমাকে বলতো, বাবা তুমি কোনো চিন্তা করো না। তোমার কোনো চাকরি করতে হবে না। তুমি একটা ব্যবসা-বাণিজ্য কর। আমি বলতোাম বাবা ব্যবসা করতে তো টাকা লাগে—আমার কাছে তো টাকা-পয়সা নেই। আমার ছেলেকে যারা মেরেছে আমি তাদের বিচার চাই।

নিহত লিমনের চাচা সুজন আহমেদ জানান, আজ সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণের জন্য তার মা-বাবা আত্মীয়রা বিমান বন্দরে যায়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।

প্রতিবেশী হৃদয় বলেন, লিমনের বাবা জহুরুল হক ১৯৯৪ সালে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তারা ঢাকাতেই থাকতেন সেখানে একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন তিনি। মাঝেমধ্যে তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন।

লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হন। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন তিনি।

গত ২৪ এপ্রিল আমেরিকার ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লিমনের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে (২৬) গ্রেফতার করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। হিশাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/SA
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!