ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঢাকায় নেমে বেঁচে গেলেন বাবা, প্রাণ হারালেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৭, ২৩ মার্চ ২০২৬
ঢাকায় নেমে বেঁচে গেলেন বাবা, প্রাণ হারালেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে
স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে পিন্টু হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মা ও তার দুই শিশু সন্তান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

নিহতরা হলেন- মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসচালক পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) ও তাদের দুই কন্যা খাদিজা (৫) এবং মরিয়ম (৩)। এ ছাড়া একই উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের জোহাদ হোসেন নিহত হয়েছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস যশোরের চৌগাছা থেকে ছেড়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর হয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে যাচ্ছিল। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীরা স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের পথে ছিলেন। পথিমধ্যে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত হন। আনন্দমুখর ঈদের যাত্রা মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।

নিহতদের স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মামুন পরিবহন বাসটির মূল চালক ছিলেন পিন্টু হোসেন। তিনি যশোর থেকে বাসটি চালিয়ে ঢাকা পর্যন্ত আসেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিশ্রাম নিতে বদলি অন্য এক চালকের হাতে বাসের স্টিয়ারিং তুলে দিয়ে পিন্টু ঢাকাতেই নেমে যান। পিন্টু বাস থেকে নেমে গেলেও তার দুই সন্তান ও স্ত্রী বাসেই থেকে যান। পরে কুমিল্লায় ওই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান প্রাণ হারান।

পিন্টুর ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই পরিবার নিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় সে নেমে যায়, কিন্তু তার স্ত্রী-সন্তানরা বাসে ছিল। দুর্ঘটনায় তারা সবাই মারা গেছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরের সামনে কথা হয় পিন্টু ইসলামের সঙ্গে। স্ত্রী আর সন্তানকে হারিয়ে যেন কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিন্টু ইসলাম বলেন, আমার শ্যালক বিদেশ থেকে আসবে। আমি তাকে রিসিভ করে পরে শ্বশুরবাড়ি যাব। এ জন্য রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা নেমে গেছিলাম। ভোর ৪টার দিকে খবর পাই গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট করছে। প্রথমে ঘটনাস্থল এবং পরে হাসপাতালে এসে দেখি আমার স্ত্রী আর সন্তানদের নিথর দেহ। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব। আমার ছোট্ট মেয়েগুলো কত কষ্ট পেয়ে যে মরেছে, আল্লাহ ভালো জানে। আল্লাহ আমারে বাঁচিয়ে রাখল কেন?’

তিনি আরো বলেন, কুমিল্লায় এসে জেনেছি ঘটনার সময় ব্যারিয়ার ফেলা হয়নি, যার কারণে বাস ট্রেনের লাইনে চলে আসে। রেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ১২ জন মানুষের প্রাণ গেছে। আমরা এর বিচার চাই। সঠিক সময়ে ব্যারিয়ার ফেলা হলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটত না। ট্রেনটি বাসকে মুখে করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছে। কতটা কষ্ট সবাই পেয়েছে—আমরা হয়তো বুঝতে পারছি না।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসঊদ বলেন, মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: ঝিনাইদহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!