রোববার (২২ মার্চ) রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে সায়েদার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। এবার আর আনন্দ-উল্লাস নয়, সায়েদার শোকে স্বজনদের মাঝে চলছে মাতম।
সায়েদার ফুফা আব্দুর রব ও চাচি শাহিনুর সুলতানা জানান, সায়েদার বাবা সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। প্রতি ঈদে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে আসেন। এবার বাড়িতে ফিরে নতুন ঘরে উঠে আনন্দ করার কথা ছিল সবার। কিন্তু স্বজনরা এখন শোকে পাথর হয়ে আছেন। যে সায়েদার একাই বাড়ি মাতিয়ে রাখত, এবার তার লাশ এলো বাড়িতে। বাড়ির উঠানে সে আর কখনো আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠবে না।
.png)
জানা গেছে, দুই বছর আগে সিরাজ উদদৌলার একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এবার কুমিল্লায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার ছোট মেয়েটিও চলে গেল। তার বড় মেয়ে তাসনুবা তাবাসসুম আফনান (২২) বর্তমানে আইসিইউতে। সিরাজ উদদৌলা ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার ফরিদপুর থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে সিরাজ তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে লক্ষ্মীপুরে আসছিলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে তার মেয়ে সায়েদাসহ ১২ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় সিরাজ উদদৌলা, তার স্ত্রী রাজিয়া ও বড় মেয়ে আফনান গুরুতর আহত হন। তারা ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আফনান আইসিইউতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
সিরাজ উদদৌলার শ্যালক আবি আবদুল্লাহ বলেন, আমার ভাগনি আফনানের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সে আইসিইউতে আছে। বোন রাজিয়ার শরীরের হাড় ভেঙে গেছে, সে এখন পঙ্গু হাসপাতালে। সিরাজ উদদৌলা মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন।
সিরাজ উদদৌলার ভায়রা লিটন মিয়া বলেন, সায়েদার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। এখনো জানাজার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তার বাবার আসার কথা রয়েছে; সকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।