মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকের পরিবারের ৯ জন সদস্যের মরদেহ যখন অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হচ্ছিল, তখন উপস্থিত মানুষের চোখের জল বাঁধ মানছিল না। মোংলার মানুষ আগে কখনো একসঙ্গে এতগুলো লাশ দেখেনি। পরিবারটির সেই সাজানো সংসার মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; এখন রাজ্জাকের স্ত্রী এবং তার তিন সন্তান ছাড়া পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এই পরিবারটির আর্তনাদ করার মতো শক্তিটুকুও যেন ফুরিয়ে গেছে, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো পাশে দাঁড়ানোর মানুষও যেন আজ স্তব্ধ।
শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মোংলা সরকারি কলেজ মাঠে রাজ্জাক পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠভরা মানুষের চোখের জলে আর গুমোট নিস্তব্ধতায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে মোংলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাদের সারি সারি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। পরিবারের একের পর এক সদস্যকে কবরে নামানোর সেই দৃশ্য ছিল সহ্য করার মতো নয়। আজ দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মোংলা পুরাতন কবস্থানে দাফন করা হবে।
.png)
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে যায় ১৪টি প্রাণ। ওই দুর্ঘটনায় নিহত কনে পক্ষের ৪ জনের মরদেহ রাতেই খুলনার কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈমের মরদেহ রামপালের পেড়িখালীতে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।